‘শিগগিরই ৬০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ’
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, পাবলিক পরীক্ষার কারণে সাধারণ পাঠদান যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে আধুনিক ‘মাল্টিপারপাস পরীক্ষাকেন্দ্র’ নির্মাণ করবে সরকার। তিনি বলেন, বিদ্যমান পরীক্ষাপদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে মূল্যবান দুটি বছর ঝরে যাচ্ছে, যা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অর্জনে বড় বাধা। তিনি বলেন, প্রাথমিকের ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক পদের মামলা জটিলতা নিরসনের চেষ্টা চলছে। দ্রুতই প্রাথমিকে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। গতকাল বুধবার সকালে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড আয়োজিত আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে সিলেট অঞ্চলের কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। আমরা শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয় বরং শিক্ষার গুণগত মান ও সংস্কারে গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে যাতে পাঠদানের মান নিশ্চিত করা যায়। আমি সংসদ সদস্যদের অনুরোধ করব, আপনারা নিজ নিজ এলাকার স্কুলের সিসি ক্যামেরা কোড নিয়ে স্মার্টফোনের মাধ্যমেই তদারক করুন।’
শিক্ষকসংকট ও নিয়োগ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকের ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক পদের মামলা জটিলতা নিরসনের চেষ্টা চলছে। খুব দ্রুত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের নিয়ে একটি ‘পুল’ গঠন করা হচ্ছে, শিক্ষকসংকট থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় তাঁদের পার্ট-টাইম শিক্ষক হিসেবে কাজে লাগানো হবে।
নকলের বর্তমান ধরন সম্পর্কে সতর্ক করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এখন আর আগের মতো সনাতন পদ্ধতিতে নকল হয় না, এখন ডিজিটাল নকলের ভ্যারিয়েন্ট এসেছে। শিক্ষক যদি ক্লাসে না পড়ান, তবেই শিক্ষার্থীরা নকলের আশ্রয় নেয়। তাই মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমেই এ ব্যাধি দূর করতে হবে। এ সময় মন্ত্রী পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে শিক্ষকদের আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান। শিক্ষামন্ত্রী জানান, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক প্রশস্তকরণে ক্ষতিগ্রস্ত ১৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অগ্রাধিকারভিত্তিতে পুনর্র্নিমাণ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষার প্রসার ও নৈতিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারলে বিদেশে কর্মসংস্থান আরও বৃদ্ধি পাবে। তিনি সিলেট অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নে শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমেদ চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, সিলেট জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিঞা মো. নুরুল হক, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সিলেট অঞ্চলের কেন্দ্রসচিবসহ শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
