সুসংবাদ প্রতিদিন
হবিগঞ্জে ক্যাপসিকাম চাষে কৃষক লাভবান
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
মামুন চৌধুরী, হবিগঞ্জ

কৃষক শাহনেওয়াজ মিয়া। তিনি বাহুবল উপজেলার কচুয়াদি গ্রামের বাসিন্দা। নিজ বাড়ির পাশে প্রায় ৩০ শতক জমিতে তিনি ফ্রিপ প্রকল্পের আওতায় মালচিং পেপার পদ্ধতিতে ক্যাপসিকাম চাষ করে সফল হয়েছেন। পোকা দমনে ব্যবহার করেছেন হলুদ ফাঁদ ও ফেরোমন ফাঁদ। জমিতে প্রয়োগ করেছেন গোবর ও কিছু পরিমাণে সার। এসব ব্যবহার করায় ক্যাপসিকামের প্রচুর ফলন হয়েছে। রাসায়নিক ব্যবহার না করায় তার উৎপাদিত ক্যাপসিকাম বিষমুক্ত।
কৃষক মো. শাহনেওয়াজ মিয়াকে রংপুর ও কিশোরগঞ্জ থেকে প্রায় ৩ হাজার ২০০ ক্যাপসিকামের চারা সংগ্রহ করে দেন পশ্চিম জয়পুর কৃষি ব্লকের উপসহকারী অফিসার মো. শামিমুল হক শামীম। জমিতে এ চারা রোপণ করা হয় নভেম্বরের শেষে। প্রায় ২ মাস পরিচর্যা করার পর গাছে গাছে ফলন আসে। বিক্রি শুরু হয় ফেব্রুয়ারির প্রথম থেকে। শুরুতে প্রতিকেজি ক্যাপসিকাম ২০০ টাকায় বিক্রি হয়।
কৃষক মো. শাহনেওয়াজ মিয়া জানান, চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, কঠোর পরিশ্রম করায় ক্যাপসিকামের ভালো ফলন হয়েছে। ক্যাপসিকামের চাষ করতে আগ্রহী ছিলাম না। উপসহকারী অফিসার মো. শামিমুল হক শামীম রংপুর ও কিশোরগঞ্জ থেকে চারা সংগ্রহ করে দিয়ে পরামর্শ প্রদান করেন। এতে আগ্রহী হয়ে চাষ করে লাভবান হয়েছি। ভালো ফলন দেখে স্থানীয় কৃষকরাও ক্যাপসিকাম চাষে আগ্রহী হয়েছেন।
স্থানীয় কৃষক এরশাদ মিয়া বলেন, ক্যাপসিকাম ফেসবুকে দেখেছি। এখানে এ ফসলটি নতুন। কৃষি বিভাগ থেকে আমাকে বলা হলেছিলো, আমি চাষ করেনি। এখানে প্রথম চাষ করে সফলতা পেলেন কৃষক মো: শাহনেওয়াজ মিয়া। তবে আগামীতে আমি ক্যাপসিকামের চাষ করতে আগ্রহী। তার ন্যায় অন্যান্য কৃষকরাও একই কথা বলেছেন।
উপসহকারী অফিসার মো. শামিমুল হক শামীম বলেন, বাহুবলে ক্যাপসিকাম চাষে সফলতা পেয়েছেন কৃষক মো: শাহনেওয়াজ মিয়া। এ সাফল্য দেখে অন্যান্য কৃষকরাও ক্যাপসিকাম চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তিনি বলেন, ঝুরঝুরে বেলে দোআঁশ মাটি ক্যাপসিকাম চাষের জন্য উপযুক্ত। যদিও সব মৌসুমেই ক্যাপসিকাম চাষ সম্ভব। তবে চারা একটু বড় হলে শক্ত খুঁটি দিতে হবে, যেন হেলে না পড়ে যায়। এছাড়া গাছের গোড়ায় আগাছা থাকলে সেগুলো সাবধানে তুলে ফেলতে হবে। চারা বসানোর প্রায় ২ মাস পর থেকে অর্থাৎ চারা গাছ ৩ মাস হলেই ফল দিতে শুরু করে, যা পরবর্তী এক থেকে দেড় মাস পর্যন্ত ফল দিতে থাকে।
বাহুবল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চিন্ময় কর অপু বলেন, খেয়াল রাখতে হবে, ক্যাপসিকামের পাতায় যেন রোগের উপদ্রব না হয়। সাধারণত, দুই ধরনের রোগ দেখা যায় ক্যাপসিকামে। এর একটি হলো পাতা কুঁকড়ে যাওয়া আর অন্যটি হলো পাতায় কালো দাগ হওয়া। জাব পোকা দলবদ্ধভাবে পাতার রস চুষে খায়, এ কারণে পাতা কুঁকড়ে যায়। এ থেকে রক্ষা পেতে নিম বীজের দ্রবণ অথবা সাবানপানি স্প্রে করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১০ লিটার পানিতে দুই চা চামচ গুঁড়ো সাবান গুলিয়ে ব্যবহার করতে হবে। তিনি বলেন, বাহুবলের কৃষকদের মাঝে ক্যাপসিকামের চাষ ছড়িয়ে দিতে আমরা কাজ করছি।
