রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান রাখাইন রাজ্যেই নিহিত

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যেই নিহিত রয়েছে। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে প্রচেষ্টা আরও জোরদারের আহ্বান জানান তিনি। গত শুক্রবার তুরস্কে চলমান আন্টালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরাম ২০২৬-এ ‘গ্লোবাল রিফিউজি প্রোটেকশন সিস্টেম ইন দ্য ফেস অব ডিসপ্লেসমেন্ট ক্রাইসিস’ শীর্ষক অধিবেশনে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মানবিক সহায়তার গণ্ডি পেরিয়ে আরও সক্রিয় ও ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে হবে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক দাতা দেশগুলোর সহায়তা কমে যাওয়ার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি তহবিলের জোগান বাড়ানো, রাখাইনের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। ড. রহমান আরও জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মি, উভয় পক্ষই তাকে স্বাগত জানিয়েছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানযোগ্য, তবে এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ এবং টেকসই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।

সার্ক প্রতিষ্ঠায় শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভূমিকা স্মরণ আন্টালিয়া ফোরামে : তুরস্কের আন্টালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামে আয়োজিত মন্ত্রী পর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রতিষ্ঠায় শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অগ্রণী ভূমিকার কথা গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

গতকাল শনিবার ফোরামের ওই অধিবেশনে বক্তারা আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সংলাপ বাড়াতে সার্কের দীর্ঘস্থায়ী গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই প্যানেল আলোচনায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং আফগানিস্তানের পরিবহন মন্ত্রী আজিজি অংশগ্রহণ করেন।

অধিবেশনে ড. খলিলুর রহমান বলেন, সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈদেশিক নীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বক্তারা একমত হন যে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘদিনের বাধা দূর করে আঞ্চলিক সংহতি বাড়াতে টেকসই সংলাপ এবং কূটনীতিই একমাত্র কার্যকর পথ বলে জোর দেন তারা।