হরমুজ প্রণালীতে বাংলাদেশি জাহাজের চলাচল নিশ্চিতে সরকারকে নোটিশ
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আলোকিত ডেস্ক

হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং এর মাধ্যমে সৃষ্ট ভয়াবহ জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে অবিলম্বে কূটনৈতিক পদক্ষেপের দাবিতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
গতকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান (মামুন) জনস্বার্থে এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। লিগ্যাল নোটিশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।
নোটিশে অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজগুলো ইরানের নৌবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ অবরুদ্ধ হওয়ার ফলে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে এবং দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাবে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যা দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত নাগরিকদের ক্রয়ক্ষমতাকে সম্পূর্ণ পঙ্গু করে দিয়েছে।
নোটিশে আইনি যুক্তি তুলে ধরে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের অন্ন, বস্ত্রসহ জীবনের মৌলিক চাহিদাগুলো নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। সাশ্রয়ীমূল্যে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়ে নাগরিকদের এই অক্ষমতা সরাসরি সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘জীবনের অধিকার’ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সরকার এই ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে এবং নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় দৃশ্যত ব্যর্থ হয়েছে।
আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান (মামুন) নোটিশে গুরুত্বারোপ করে বলেন, বৈদেশিক নীতি নির্ধারণ সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার অংশ হলেও কোনো রাষ্ট্রীয় নীতি বা কূটনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা যদি সংবিধানের সুস্পষ্ট বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তবে তা সুপ্রিম কোর্টের বিচারিক পর্যালোচনার আওতাভুক্ত হবে।
নোটিশে আন্তর্জাতিক ও সাংবিধানিক আইনের রেফারেন্স দিয়ে বলা হয়েছে যে, সংবিধানের ২৫(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্র সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ বা বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ন্যায়সংগত সংগ্রামরত বিশ্বের যে কোনো নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়াতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
বর্তমানে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের জনগণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবৈধ এবং অযৌক্তিক আগ্রাসনের শিকার। এই আগ্রাসন জাতিসংঘ সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদে বর্ণিত বলপ্রয়োগের নিষেধাজ্ঞার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ইন্টারন্যাশনাল কভিন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস এর ৬ অনুচ্ছেদে বর্ণিত জীবনের অধিকারের সরাসরি পরিপন্থি।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা পালনে ব্যর্থ হয়েছে। সংবিধানের ২৫(গ) অনুচ্ছেদের ম্যান্ডেট অনুযায়ী সরকার যদি মার্কিন আগ্রাসনের শিকার ইরানের নির্যাতিত জনগণের প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সমর্থন ব্যক্ত করে, তবে সেই কূটনৈতিক সদিচ্ছাকে কাজে লাগিয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজগুলোর নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা বর্তমানে বাংলাদেশের চরম অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
নোটিশে আগামী ১০ দিনের মধ্যে সংবিধানের ২৫(গ) অনুচ্ছেদ, জাতিসংঘ সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদ এবং আইসিসিপিআর এর ৬ অনুচ্ছেদের আলোকে মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের শিকার ইরানের জনগণের পক্ষে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানাতে এবং একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হলে, বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে।
