এআইয়ের কাছে একটি প্রশ্ন

প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  প্রযুক্তি ডেস্ক

আজকাল আমাদের হাতের নাগালে জাদুর মতো কাজ করে এআই (AI)। একটি মাত্র প্রম্পট বা কমান্ড দিলেই চোখের পলকে তৈরি হচ্ছে রেসিপি, কোডিং, ছবি কিংবা ভ্রমণের পরিকল্পনা। কিন্তু আমরা কি জানি, এই সেকেন্ডের উত্তরের নেপথ্যে বিশ্বজুড়ে কতটা বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে? চ্যাটজিপিটি (ChatGPT) থেকে শুরু করে বিশালাকার ডেটা সেন্টার- বিদ্যুতের এই চাহিদা পরিবেশের ওপর কেমন প্রভাব ফেলছে, তা রীতিমতো উদ্বেগের।

আমরা যখন সাধারণ কোনো প্রশ্ন করি, সেই কাজটি সম্পন্ন হয় বিশ্বের কোনো না কোনো প্রান্তে থাকা বিশাল এক ডেটা সেন্টারে। সেখানে দিনরাত কাজ করছে হাজার হাজার উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার এবং এচট (Graphics Processing Unit) চিপ। এই শক্তিশালী হার্ডওয়্যারগুলো পরিচালনার জন্য যেমন বিদ্যুৎ লাগে, তেমনি সেগুলোকে ঠান্ডা রাখতেও ব্যয় হয় বিপুল শক্তি।

এআইয়ের চাহিদা আকাশচুম্বী হওয়ায় প্রযুক্তি বাজারে কম্পিউটিং পাওয়ারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চিপ নির্মাতা সংস্থা এনভিডিয়া (Nvidia)-র আধুনিক ‘ব্ল্যাকওয়েল’ চিপ ভাড়ার খরচ মাত্র দুই মাসে প্রায় ৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি অ্যানথ্রোপিক (Anthropic)-এর মতো জনপ্রিয় চ্যাটবটগুলোও পিক টাইমে অতিরিক্ত চাপের কারণে মাঝেমধ্যে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, একটি সাধারণ টেক্সট প্রম্পটের উত্তর তৈরি করতে প্রায় ০.৩ থেকে ০.৩৪ ওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ খরচ হয়। আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি এলইডি বাল্ব কয়েক মিনিট জ্বালানোর সমান মনে হলেও, যখন প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ এআই ব্যবহার করেন, তখন সেই সমষ্টিগত খরচের পরিমাণ দাঁড়ায় আকাশছোঁয়া। বিশ্বের মোট বিদ্যুতের প্রায় ১.৫ শতাংশ খরচ হয় শুধু ডেটা সেন্টারগুলোতে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এই বিদ্যুৎ ব্যবহারের হার দ্বিগুণ ছাড়িয়ে যাবে। একটি বড় এআই ডেটা সেন্টার চালাতে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ লাগে, তা দিয়ে প্রায় ১ লাখ সাধারণ বাড়ির চাহিদা মেটানো সম্ভব।

প্রযুক্তি আমাদের কাজ সহজ করে দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু এর জন্য পরিবেশকে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে। কয়লা, গ্যাস বা জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে তৈরি বিদ্যুতের ব্যবহার পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব ‘সবুজ শক্তি’ (Green Energy) এবং আরও সাশ্রয়ী চিপ ব্যবহারের মাধ্যমেই এআই প্রযুক্তির এই ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব।