হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু

হাম রোগীর জন্য হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ

প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশু এবং হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে মোট ৩৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯৪টি শিশুর। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ সময়ে হামে আক্রান্ত হয়েছে ১২৫টি শিশু। আর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৪৭ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে ও হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। হামের উপসর্গ নিয়ে বাকি দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ১৭০টি শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা যায়। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৪৭টি শিশু। এর মধ্যে ৩৫৫টি শিশুই ঢাকা বিভাগের। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ৮৩৬টি শিশু গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিভাগের ৪২০ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা গেছে মোট ২৮ হাজার ৩৩৪টি শিশুর মধ্যে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৮ হাজার ৮৪৫টি শিশু। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৫৯ জনের হাম শনাক্ত হয়। আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া রোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ৭২৮। হাম রোগীর জন্য হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ : সরকারি হাসপাতালগুলোতে হামের রোগীদের জন্য শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পাশাপাশি শয্যা সংকটের অজুহাতে কোনো হাম রোগীকে ফেরত পাঠানো যাবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনার তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান কর্তৃক স্বাক্ষরিত গত ২১ এপ্রিলে নির্দেশনায় সব সরকারি হাসপাতালকে দ্রুত এ নির্দেশনা কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হাসপাতালে আসা হাম বা হাম উপসর্গের রোগীদের ক্ষেত্রে শয্যা খালি না থাকলেও ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে অতিরিক্ত শয্যার ব্যবস্থা করতে হবে। তবে জটিল অবস্থা হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীকে রেফার করা যাবে। রেফার করার ক্ষেত্রে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিশেষায়িত হাসপাতালের নির্ধারিত রেফারাল চেইন অনুসরণ করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের প্রধানকে দায় বহন করতে হবে।