সুসংবাদ প্রতিদিন
তিতাসে জিংকসমৃদ্ধ জাতের ধানের ফলন ভালো
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
তাজুল ইসলাম, তিতাস (কুমিল্লা)

কুমিল্লার তিতাসে বোরো ধান কাটা-মাড়াইয়ের চলছে মহোৎসব। ভোর থেকে সারাদিনে মাঝারি তাপপ্রবাহের যন্ত্রণাকে সঙ্গী করে রাত অবধি সোনালি ধান ঘরে তোলার তাগাদায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কিষানিসহ পরিবারের ছোট-বড় সবাই। তবে এবার অন্যান্য জাতের ধানের পাশাপশি জিংক সমৃদ্ধ জাতে ফলন ভালো হওয়ায় খুশি কৃষক।
গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিন উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের কালাইগোবিন্দপুর ব্লকে বিশাল মাঠজুড়ে হলুদ পাকা ধান মৃদু হাওয়ায় দোল খাচ্ছে। কিছু কিছু জমিতে পাকা ধান কাটতে ব্যস্ত কৃষক ও শ্রমিক। এসময় কথা হয় কালাইগোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক শেখ ফরিদের সঙ্গে। তিনি জানান, এবার ৩৩ শতক জমিতে ব্রি ধান-১০৪ জাতের ধান আবাদ করে ছিলাম। ফলন খুব ভালো হয়েছে। আশা করছি হেক্টর প্রতি সাড়ে ৭ টন করে ধান পাব। কুড়িগ্রামের ভাসমান দিনমজুর আবদীন মিয়া বলেন, আমরা এই সিজনে এ এলাকায় ধান কাটি, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার তিতাসে ধান ভালো হয়েছে। একই ব্লকের আহমেদ উল্লাহ জানান, ‘আমি এবার কৃষি অফিসের পরামর্শে ৩০ শতক জমিতে ব্রি ধান-১০২ আবাদ করেছি। ফলন দেখে মনটা ভরে গেছে, দুইদিন পর কর্তন করব।’
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার অন্যান্য জাতের পাশাপাশি জিংক সমৃদ্ধ ব্রি ধান-১০২, খরা সহজনশীল ব্রি ধান-১০০ এবং সুগন্ধিময় ব্রি ধান-১০১, ব্রি ধান-১০৪ ও ব্রি ধান-১০৮ চাষ করা হয়েছে। বর্তমানে এই জাতের ধানগুলো কর্তন করা হচ্ছে। তবে আগামী ৯-১০ দিন পর ব্রি ধান-২৯, ব্রি ধান-৮৯ ও ব্রি ধান-৯২সহ অন্যান্য জাতের ধানগুলো কর্তন করা হবে। উপজেলায় এবার ৬ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও চাষাবাদ হয়েছে ৬ হাজার ৭৩৫ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬৫ হেক্টর জমিতে আবাদ কম হয়েছে। তবে গত বছর লক্ষ্যমাত্রা একই থাকলেও আবাদ হয়েছিল ৬ হাজার ৮৩০ হেক্টর। অর্থাৎ ওই বার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ বেশি হয়েছিল।
উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. কাউছার আহমেদ জানান, নতুন জাতের বোরো ধান কর্তনকে ঘিরে কৃষক পরিবারগুলোতে উৎসবমূখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে জিংক জাতের ধানের শীষ ভারী ও দানায় পরিপূর্ণ, গাছ শক্ত হওয়ায় হেলে পড়ার ঝুঁকি ছিল না। তাই এ জাতের ফলন ভালো আশা করা যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, তিতাসে এবার ভূট্টার আবাদ বেশি হয়েছে। তাই বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। তবে গত বছর ভূট্টা চাষ কম হওয়াতে ধান লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আবাদ হয়েছিল। নতুন জাতের বীজ উচ্চ ফলনশীল ও সহনশীল, যা কৃষকের উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ধান উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জিংকের ঘাটতি পূরণে আমরা কৃষককে উদ্বুদ্ধ করছি। তবে এবার প্রায় ১০০ হেক্টক জমিতে জিংক সমৃদ্ধ ব্রি ধান-১০২ আবাদ করা হয়েছে।
