বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া পরিশোধে ২ হাজার ৬৭ কোটি টাকা ছাড়

প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ভর্তুকি ছাড়ের মাধ্যমে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া পরিশোধে এগোচ্ছে সরকার। তবে অর্থ ছাড়ের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে কড়াকড়ি শর্ত ও নজরদারি। মার্চ মাসের বকেয়া বিল পরিশোধে ২ হাজার ৬৭ কোটি ৫ লাখ টাকা ছাড়ের অনুমোদন দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। ২১ এপ্রিল জারি করা অর্থ বিভাগের বাজেট অনুবিভাগ-১ এর নির্দেশনা অনুযায়ী, এই অর্থ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) অনুকূলে দেওয়া হবে, যা বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া বিল পরিশোধে ব্যবহার করা হবে। অর্থটি আসবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের বিদ্যুৎ ভর্তুকি খাত থেকে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মার্চ মাসে ৯৪টি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকৃত ঘাটতির ভিত্তিতে এই ভর্তুকি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বকেয়া পরিশোধ সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানিয়েছে পিডিবি। তবে অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত অনুমোদন না থাকা দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের বিপরীতে এই খাত থেকে কোনো অর্থ দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোকে দ্রুত প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে বলা হয়েছে।

নতুন যুক্ত হওয়া বিআর পাওয়ার জেন শ্রীপুর (১৬০ মেগাওয়াট) এবং আরপিসিএল-নোরিনকো ইন্টারন্যাশনাল পাওয়ার লিমিটেডের বিষয়ে স্পষ্টীকরণ শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যদিকে, অনুমোদিত ছয়টি কেন্দ্রের ক্ষেত্রে নতুন ট্যারিফ অনুযায়ী আগের ভর্তুকির সঙ্গে সমন্বয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগ জানায়, বরাদ্দ করা অর্থ শুধু নির্ধারিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিল পরিশোধেই ব্যবহার করা যাবে; অন্য কোনো খাতে ব্যয়ের সুযোগ নেই। পাশাপাশি সব আর্থিক বিধি-বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ঘাটতির বিস্তারিত তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত দায়ের সঙ্গে এই ভর্তুকির সমন্বয় করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘমেয়াদে ভর্তুকিনির্ভরতা কমাতে কাঠামোগত সংস্কারের দিকেও ইঙ্গিত দিয়েছে অর্থ বিভাগ। এর মধ্যে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে ক্যাপাসিটি চার্জ কমানো, কেন্দ্রভিত্তিক উৎপাদন-বিক্রির তুলনামূলক হিসাব রাখা এবং রিয়েল-টাইম ডেটানির্ভর ইআরপি সিস্টেম চালুর কথা বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বকেয়া পরিশোধের জন্য সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি ছাড়ের অনুরোধ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে ২ হাজার ৬৭ কোটি ৫ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।