এনসিপিতে ইসহাক সরকার, শেরেবাংলার নাতনিসহ কয়েকজন

প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন। এ ছাড়া অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি ও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রেলের অনিয়ম নিয়ে আন্দোলন করে আলোচনায় আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনিও এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইডিইবি) এক অনুষ্ঠানে তাঁরা এনসিপিতে যোগ দেন। ‘রাজনৈতিক নেতা ও নাগরিকদের এনসিপিতে যোগদান’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ দলটির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

ফেরসামিন বিদেশে থাকায় অনুষ্ঠানে সশরীর উপস্থিত থাকতে পারেননি। অন্যরা অনুষ্ঠানের মঞ্চে ছিলেন। নাম ঘোষণার পর ইসহাক সরকার, নুরুজ্জামান কাফি ও মহিউদ্দিন রনিকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন নাহিদ ইসলাম। এ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বেলা সোয়া তিনটার দিকে আইডিইবিতে এসে পৌঁছান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। এনসিপির নেতাকর্মীরা তাদের স্লোগান দিতে দিতে অনুষ্ঠানস্থলে নিয়ে আসেন। এর কিছুক্ষণ পর নেতাকর্মীদের নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন ইসহাক সরকার। এ সময় নেতাকর্মীরা ‘পুরান ঢাকার ইসহাক ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’, ‘জুলাই যোদ্ধা ইসহাক ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’, ‘দুর্দিনের ইসহাক ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’, ‘এনসিপি-জনতা, গড়ে তোলো একতা’ ইত্যাদি বলে স্লোগান দেন। বেলা সাড়ে তিনটায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। মঞ্চে ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। সবাই দাঁড়িয়ে জাতীয়সংগীতের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান। প্রথমে বক্তব্য দেন এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আলাউদ্দীন মোহাম্মদ ও সদস্যসচিব এস এম শাহরিয়ার। বক্তব্য দেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনে এনসিপির মনোনীত প্রার্থী তারেক আহম্মেদ আদেল।

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের পর বক্তব্য দেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এনসিপিতে যোগদানকারীদের নাম ঘোষণা করে নাহিদ বলেন, ‘এনসিপিতে কেন্দ্রীয়ভাবে যোগ দিচ্ছেন ফেরসামিন হক ইকবাল। তিনি বিদেশে আছেন। তিনি শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি। বরিশালের কৃতী সন্তান হিসেবে তিনি এনসিপিতে কাজ করবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ নুরুজ্জামান কাফিকে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে এনসিপিতে স্বাগত। জুলাইয়ের সহযোদ্ধা মহিউদ্দিন রনিকেও স্বাগত জানাই। আমরা সবাই এনসিপিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাব।’

ইসহাক সরকারকে এ আয়োজনের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ইসহাক সরকারকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ছাত্রদল, যুবদলে তিনি কেন্দ্রীয়ভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা ছিল। তিনি আমাদের সহযোদ্ধা। তিনি আগে বিরোধী রাজনীতি করেছেন, এখনও বিরোধী রাজনীতিই করবেন।’

এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, ‘ইসহাক সরকার আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। ইসহাক সরকার সব সুযোগ-সুবিধাকে একদিকে ঠেলে দিয়ে জনগণ ও তরুণদের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। ইসহাক সরকারের সঙ্গে তার অসংখ্য অনুসারী এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন। তাদেরও স্বাগত জানাই।’

এরপর ইসহাক সরকারসহ এনসিপিতে যোগ দেওয়া নেতাদের একে একে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন নাহিদ ইসলাম। পরে তিনি ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অন্য একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার উদ্দেশে আইডিইবি থেকে চলে যান। এরপর সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের নেতা মাকসুদুর রহমান সোহেলও এনসিপিতে যোগ দেন। এনসিপির অন্য নেতারা তাকেও ফুল দিয়ে বরণ করেন।

ইসহাক সরকারসহ সদ্য এনসিপিতে যোগ দেওয়া ব্যক্তিরা এরপর তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন। এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, শীর্ষস্থানীয় নেতা সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

এর আগে ১৯ এপ্রিল আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৪৪ জন নেতা এনসিপিতে যোগ দেন। অবশ্য ওই ৪৪ জনের অধিকাংশই ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদের উদ্যোগে গঠিত রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম আপ বাংলাদেশের নেতাকর্মী।

সারাদেশে এনসিপির প্রতি অভূতপূর্ব সাড়া মিলছে -নাহিদ ইসলাম : জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক (এনসিপি) মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক সংগ্রামের ভেতর থেকে গড়ে ওঠা একটি রাজনৈতিক দল এনসিপি। তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে পরিবর্তন ও সংস্কারের যে নতুন আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, সেই লক্ষ্যেই এনসিপি দেশকে ঢেলে সাজাতে চেয়েছিল। সারাদেশ থেকেই এনসিপির প্রতি অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে রাজনৈতিক নেতা ও নাগরিকদের দলে যোগদান অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনের সময় আমরা জনগণকে কমিটমেন্ট করেছিলামণ্ড এটি কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়, এটি দেশ পরিবর্তন ও রাষ্ট্র সংস্কারের নির্বাচন। কারণ, এই নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের পর, সরকার গঠনের পর সেই গণভোটকে অস্বীকার করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের লেগেসি থেকে এই নির্বাচনকে বিচ্ছিন্ন করে একটি সাধারণ ক্ষমতা পরিবর্তনের নির্বাচনে পরিণত করেছে। সংবিধানসহ গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবগুলো একে একে বাতিল করা হচ্ছে।

দেশে পুনরায় বৈষম্য ও দলীয়করণের প্রবণতা বাড়ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করা হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্ষমতার রাজনীতি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। ফ্যাসিবাদ বা কোনো স্বৈরতন্ত্র টিকিয়ে রাখার চেষ্টা হলে জনগণ আবারও সংগঠিত হবে এবং এনসিপির ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ হবে। তিনি বলেন, সারাদেশ থেকেই এনসিপির প্রতি অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। আমরা একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল গড়ে তুলতে চাই, যা তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে, কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে, বৈষম্য দূর করবে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে।