সুসংবাদ প্রতিদিন
চৌগাছায় পটোলের ফলন ও দামে খুশি কৃষক
প্রকাশ : ০১ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নাসিফ খান, চৌগাছা (যশোর)

যশোরের চৌগাছা উপজেলায় চলতি মৌসুমে পটোলের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদন ভালো হওয়ার পাশাপাশি বাজারে দামও সন্তোষজনক থাকায় খুশি কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ মৌসুমে অন্তত ৫০০ কোটি টাকার পটোল বেচাকেনা হবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর চৌগাছায় প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে পটোলের চাষ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন বেড়েছে। অন্যদিকে, বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্যের কারণে পটোলের দামও ভালো রয়েছে।
চৌগাছা কাঁচাবাজারে সপ্তাহে চারদিন হাট বসে। প্রতিদিন অন্তত ২০ হাজার মণ পটোল কেনাবেচা হয়। বাজারে বর্তমানে প্রতি মন পটোল ১,৬০০ থেকে ১,৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে প্রতি হাটে গড়ে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা জানান, চৌগাছার পাশাপাশি পাশ্ববর্তী কোটচাঁদপুর, মহেশপুর, ঝিকরগাছা ও শার্শা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকেও বিপুল পরিমাণ পটোল এই বাজারে আসে। এসব পণ্য কেনাবেচার জন্য এখানে অন্তত ২৫০টি কাঁচামালের আড়ৎ রয়েছে। উপজেলার স্বর্পরাজপুর গ্রামের কৃষক মফিজুর রহমান জানান, তার ৩৩ শতক জমিতে পটোল চাষ করেছেন। শুক্রবার তিনি ৩৫০ কেজি পটোল ১,৭০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছেন। একই গ্রামের তরিকুল ইসলাম, ফুলছদ্দিন, শখের আলী ও ইলিয়াস হোসেনও জানান, এ বছর পটোলের ফলন ও দাম দুটিই ভালো হওয়ায় তারা সন্তুষ্ট।
মাড়ুয়া গ্রামের কৃষক হাফিজুর রহমান বলেন, তিনি ২৫ শতক জমিতে পটোল চাষ করেছেন। একদিনে ১৩৮ কেজি পটোল ১,৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছেন। তার মতে, পটোল চাষে খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় এটি এখন লাভজনক ফসলে পরিণত হয়েছে।
কাঁচামালের আড়ৎদার অধ্যাপক আব্দুল খালেক বলেন, অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে বেগুনসহ অন্যান্য সবজির উৎপাদন কম হওয়ায় পটলের চাহিদা বেড়েছে। পাশাপাশি রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ার কারণে উৎপাদনও ভালো হয়েছে।
চৌগাছা কাঁচাবাজার হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান লেন্টু জানান, প্রতি হাটে ২০ থেকে ২৫ হাজার মণ পটোল আমদানি হচ্ছে। এতে বাজারে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। আড়ৎদার মনিরুল ইসলাম বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এখানে পটোল কিনতে আসেন। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, ঢাকা, বরিশাল, রাজশাহী ও নওগাঁ থেকে বেশি ব্যবসায়ী আসেন।
চট্টগ্রাম থেকে আসা ব্যবসায়ী জয়নাল পাটোয়ারী বলেন, ‘চৌগাছার পটোলের মান ভালো হওয়ায় আমরা নিয়মিত এখান থেকে পণ্য কিনি।’
বরিশালের ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস মাতুব্বর জানান, তার এলাকায় যশোর অঞ্চলের সবজির চাহিদা বেশি থাকায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে এখান থেকে পণ্য সংগ্রহ করছেন।
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চৌগাছা উপজেলা শাখার সভাপতি তুহিনুর রহমান বলেন, কাঁচাবাজারকে কেন্দ্র করে কয়েক হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এ বছর উৎপাদন ভালো হওয়ায় শ্রমিকরাও বেশি কাজ ও আয় পাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশাব্বির হুসাইন বলেন, চৌগাছার মাটি সবজি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের আগ্রহের কারণে এ বছর পটোলের ফলন ভালো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন এটি ইতিবাচক। বাজার ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
