এসিতে সাশ্রয় হবে হাজার টাকা
প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
প্রযুক্তি ডেস্ক

গরমে স্বস্তি পেতে এসি এখন অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। কিন্তু মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলের অঙ্কে দেখে কপালে ভাঁজ পড়ে অনেকের। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এসির তাপমাত্রায় মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পরিবর্তন আপনার বিদ্যুৎ বিলে বড় ধরনের সাশ্রয় এনে দিতে পারে। অথচ প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষই বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের এই সহজ কৌশলটি জানেন না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসির তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়িয়ে রাখলে প্রায় ৩ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব। সাধারণত ১.৫ টনের একটি ৫-স্টার ইনভার্টার এসি ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করে। যদি তাপমাত্রা বাড়িয়ে ২৫ ডিগ্রি করা হয়, তবে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৫০ ওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হতে পারে।
দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি গড়ে ৮ ঘণ্টা এসি চলে, তবে সামান্য এই পরিবর্তনের ফলে প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে (প্রতি ইউনিট ৮ টাকা হিসেবে)। যা মাসে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা এবং বছরে প্রায় ২০০০ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় করতে সক্ষম। যেসব পরিবারে দীর্ঘ সময় এসি চলে, তাদের ক্ষেত্রে এই সাশ্রয়ের পরিমাণ আরও অনেক বেশি।
বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও শক্তির দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অনেক দেশেই এখন এসির আদর্শ অপারেটিং তাপমাত্রা নির্ধারণের কথা ভাবা হচ্ছে। ভারতের ব্যুরো অব এনার্জি এফিসিয়েন্সি (ইঊঊ)-এর তথ্য মতে, ২৪ বা ২৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা মানবদেহের জন্য আরামদায়ক এবং এটি জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করে। এমনকি ভবিষ্যতে এসি নির্মাতারা ডিফল্ট সেটিং হিসেবে এই তাপমাত্রা নির্ধারণ করে দিতে পারেন।
শুধু তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণই নয়, বিদ্যুৎ বিল কমাতে আরও কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি-
সিলিং ফ্যানের ব্যবহার : এসির সঙ্গে হালকা গতিতে সিলিং ফ্যান চালালে ঠান্ডা বাতাস দ্রুত ঘরে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে কম্পেসারের ওপর চাপ কম পড়ে।
নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ : এসির ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার রাখলে কর্মক্ষমতা বাড়ে।
ইনসুলেশন : ঘরের দরজা-জানালা ভালোভাবে বন্ধ রাখা এবং পর্দা ব্যবহার করে সরাসরি সূর্যের আলো ঢোকা বন্ধ করলে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয়।
স্টার রেটিং : এসি কেনার ক্ষেত্রে ৫-স্টার রেটিং এবং ইনভার্টার প্রযুক্তিকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত, কারণ এগুলো বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে অনেক বেশি কার্যকর।
সচেতনভাবে এসির ব্যবহার শুধু আপনার ব্যক্তিগত খরচই কমাবে না, বরং জাতীয় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়েও বড় ভূমিকা রাখবে।
