এআই দিয়ে ট্রাফিক মামলা

জরিমানা না দিলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সম্প্রতি বিভিন্ন ট্রাফিক সিগন্যাল ক্রসিংসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় উন্নত প্রযুক্তির সিসি ক্যামেরা এআই প্রযুক্তিসহ (এআই বেসড রোড ট্রান্সপোর্ট অ্যাক্ট ২০১৮ ভায়োলেশন ডিটেকশন সফটওয়্যার) স্থাপন করেছে। এসব ক্যামেরার ফুটেজের মাধ্যমে বিভিন্ন সিগন্যাল বা ক্রসিংয়ে লাল বাতির সিগন্যাল অমান্য বা স্টপ লাইন অতিক্রম, উল্টো রাস্তায় চলাচল, যত্রতত্র যাত্রী উঠিয়ে প্রতিবন্ধকতা, অবৈধ পার্কিং, লেফট লেন ব্লক ইত্যাদি কারণে ডিজিটাল প্রসিকিউশন বা মামলা শুরু হয়েছে। গাড়ির মালিক ও চালকের নিকট নোটিশ পৌঁছে যাচ্ছে।

নোটিশ প্রাপ্তির পর মামলার জরিমানা ডিএমপির সদর দপ্তর সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে পরিশোধ করছেন। কিন্তু অনেকে আবার সেটি পরিশোধ করছেন না। যারা পরিশোধ করছেন না তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ডিএমপি। রোববার বিকালে ডিএমপি মিডিয়া থেকে এ সংক্রান্ত একটি বার্তা সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো হয়।

ওই বার্তায় বলা হয়, ‘ঢাকা মহানগরের অভ্যন্তরে চলাচলকারী সব যানবাহনের মালিক ও চালকদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে— যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং উন্নত নাগরিক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন রুটে চলাচলরত রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অবৈধ পার্কিং, প্রতিবন্ধকতা ইত্যাদি ট্রাফিক আইন অমান্যকারী মালিক বা চালকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক ভিডিও বা স্থিরচিত্র ধারণ করে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে মালিক বা চালকগণের ঠিকানায় অটো জেনারেটেড নোটিশ রেজিস্ট্রিকৃত ডাকযোগে প্রেরণ করা হচ্ছে।’

এতে আরও বলা হয়, ‘উক্ত নোটিশ প্রাপ্তির পর মালিক বা চালকগণ ডিএমপি সদর দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে হাজির হয়ে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারার নির্ধারিত জরিমানা ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করে মামলা নিষ্পত্তি করছেন।’

বার্তায় বলা হয়, ‘নোটিশ প্রাপ্তির পরেও সংশ্লিষ্ট মালিক বা চালকগন সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে হাজির না হলে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া (সমন বা গ্রেফতারি পরোয়ানা) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণের মাধ্যমে বাস্তবায়নের কার্যক্রম সম্প্রতি গ্রহণ করা হয়েছে।’

বার্তায় আরও বলা হয়, ‘এই প্রক্রিয়ার বাইরে সিসি ক্যামেরা বা ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে মামলার জরিমানা পরিশোধ সংক্রান্ত কোনও ধরনের আর্থিক লেনদেন কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদান থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে পরামর্শ প্রদান করা হলো। কোনও ব্যক্তি বা অসাধু চক্র ভিডিও বা সিসি ক্যামেরার মামলার নাম ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধের বার্তা দিলে বা প্রতারণার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানা অথবা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।’ উল্লিখিত বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছে।