যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট
প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির (আরটিএ) বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেছেন এক আইনজীবী।
গতকাল সোমবার হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আইনজীবী মোহাম্মদ মাইদুল ইসলাম পলক জনস্বার্থে এ রিট আবেদন করেছেন। তার পক্ষে আবেদনটি জমা দেন আইনজীবী সুবীর নন্দী দাস। রিট আবেদনে পররাষ্ট্র, অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবদের বিবাদী করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিচারপতি রাজিক আল জলিল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায়ের বেঞ্চে এই রিট আবেদনের ওপর শুনানির আবেদন জানানো হবে বলে আইনজীবী সুবীর নন্দী বলেছেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই বাণিজ্য চুক্তি করে। চুক্তিতে ১৩১টি শর্ত রয়েছে, যা বাংলাদেশকে মানতে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে ছয়টি শর্ত মানতে হবে বলে খবর এসেছে।
চুক্তিটি নিয়ে ইতোমধ্যে দেশে নানা ধরনের সমালোচনা হচ্ছে। চুক্তি বাতিল চেয়ে জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারাহানা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন থেকে চুক্তি বাতিলের দাবি উঠলেও সরকার কিংবা বিরোধী দলের তরফে কোনো বক্তব্য আসেনি।
সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে, এখনো চুক্তিটি কার্যকর হয়নি। তবে বাংলাদেশ এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন পণ্য কেনার চুক্তি করছে। সম্প্রতি বোয়িংয়ের ১৪টি বিমান কিনতে চুক্তি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিটিকে ‘সুস্পষ্টভাবে অযৌক্তিক এবং কাঠামোগতভাবে অসম’ আখ্যা দিয়ে রিট আবেদনে বলা হয়েছে, এটি কেবল বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থেরই পরিপন্থি নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্যও ক্ষতিকর।
আবেদনে বলা হয়, এই চুক্তির আলোচনা ও সম্পাদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব এবং জনকল্যাণ রক্ষায় ‘ব্যর্থ’ হয়েছে। বৃহত্তর জনস্বার্থ রক্ষায় বিচারিক হস্তক্ষেপের দাবিতে এই পিটিশন দায়ের করা হয়েছে।
ডনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় বসার পর গত বছরের ২ এপ্রিল শতাধিক দেশের ওপর চড়া হারে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। বাংলাদেশের ওপর বাড়তি ৩৭ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা আসে। তিন মাস স্থগিত রাখার পর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়।
এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার দেনদরবার করার পাশাপাশি বাজেটে আরও বেশি বাণিজ্য সুবিধা দেওয়ার এক পর্যায়ে শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়।
পরে এই বাণিজ্য চুক্তি হয়, যার বিনিময়ে আরও ১ শতাংশ শুল্কছাড়া পায় বাংলাদেশ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আদালত বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্পের আরোপ করা এ পাল্টা শুল্ক বাতিল করেছে।
আইনজীবী সুবীর নন্দী দাস বলেন, ‘এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের ওপর অসম দায়বদ্ধতা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রতিকূল শুল্ক ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বায়ত্তশাসন খর্ব হওয়া এবং দেশীয় শিল্প, কৃষি ও পরিবেশগত সুরক্ষার ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’
আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মানা হয়নি অভিযোগ করে এই আইনজীবী বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, এই চুক্তির ক্ষেত্রে তা সঠিকভাবে মানা হয়নি। ফলে এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।’
