সুসংবাদ প্রতিদিন
মেহেরপুরে লিচুর ভালো ফলন চাষিদের মুখে হাসি
প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
মেহেরপুর, প্রতিনিধি

লিচু বাগানগুলোতে এখন শুধু ফল ঝুলছে না, ঝুলছে অপেক্ষা। কখন সেই লাল রঙ বাজারে গড়িয়ে পড়বে। আর তার সঙ্গে গুনে গুনে মিলবে পরিশ্রমের দাম। এই মৌসুম যেন শুধু লিচুর নয়, লিচু চাষিদের মুখে হাসি ফোটারও সময়। মেহেরপুরের লিচু রসালো ও সুস্বাদু হওয়ায় জেলার লিচুর চাহিদা দেশজুড়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। এরইমধ্যে বাজারে উঠতে শুরু করেছে লিচু। সপ্তাহের মধ্যেই বাজারে ভরপুর উঠবে মেহেরপুরের লিচু। তবে বাজার দর ভালো থাকলে ৫৫ কোটি টাকার লিচু বিক্রির প্রত্যাশা করছেন চাষিরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত বছর মেহেরপুরে ৭১৫ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছিল। সেখান থেকে ৬ হাজার ১১০ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদিত হয়। যার বাজার মূল্য ছিল ৫০ কোটিরও বেশি। চলতি বছর আবাদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮০০ হেক্টরে, যা উৎপাদন বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। মেহেরপুরের লিচু দীর্ঘদিন ধরেই স্বাদ ও গুণগত মানের জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সমাদৃত। জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয় এ ফল। বিশেষ করে রসালো ও সুস্বাদু হওয়ায় এখানকার লিচুর দেশজুড়ে আলাদা বাজার তৈরি হয়েছে। মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় ‘মোজাফফর’ জাতের লিচুর বাগানই বেশি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বনেদি ‘বোম্বাই’ জাতের লিচুর চাষও দ্রুত বাড়ছে। পাশাপাশি উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড জাতের লিচু চাষে ঝুঁকছেন অনেক চাষি।
সদর উপজেলার লিচু চাষি আব্দুল মালেক বলেন, এবার গাছে গাছে লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারদর ঠিক থাকলে আমরা ভালো লাভের আশা করছি। তবে পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থাপনা ঠিক না থাকলে ক্ষতির আশঙ্কাও আছে।
লিচু চাষি রহিম উদ্দিন জানান, গত কয়েক বছর ধরে লিচুর চাষে লাভ হওয়ায় অনেকে নতুন করে বাগান করছেন। তবে কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও অনেক বেড়েছে।
লিচু ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, মেহেরপুরের লিচুর চাহিদা ঢাকাসহ বড় বড় শহরে বেশি। মৌসুম শুরু হলে পাইকাররা সরাসরি বাগান থেকে লিচু কিনে নিয়ে যান। সড়ক পরিবহন ও সংরক্ষণ সুবিধা আরও উন্নত হলে ব্যবসা বাড়ানো সম্ভব।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সনজীব মৃধা বলেন, ‘এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। আমরা চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি যাতে রোগবালাই কম হয় এবং ফলের গুণগত মান ঠিক থাকে। বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করা গেলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, লিচু একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হিসেবে মেহেরপুরে গুরুত্ব পাচ্ছে। সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক চাষাবাদ ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে ভবিষ্যতে এ খাত থেকে বাণিজ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়বে।
