মনিরা শারমিনের রিট শুনানি নিতে ‘অপারগ’ বিচারক

সংসদে যাওয়ার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াইটা করা : মনিরা শারমিন

প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদন শুনানির কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন হাইকোর্ট। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের একজন বিচারপতির বাড়ি আর রিটকারী মনিরা শারমিনের বাড়ি একই গ্রামে। এ কারণে রিটটির শুনানি নিতে বিচারক অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে আদালত রিটটি আউট অব লিস্ট করেন। গতকাল সোমবার বিকেলে রিটটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হলে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সেটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন।

এসময় রিটকারী আইনজীবীদের উদ্দেশে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের বিচারপতি বলেন, বিষয়টি আগে উপস্থাপন করলে হয়তো আগেই বলা যেতো। যিনি প্রার্থী ওনার বাড়ি ও আমার গ্রামের বাড়ি একই এলাকায়। তাই এ রিটের শুনানিতে অপারগতা প্রকাশ করছি। অন্য একটি বেঞ্চে রিট আবেদনটি উপস্থাপন করা হলে আগামীকাল মঙ্গলবার শুনানির জন্য থাকবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চ।

আদালতে এদিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার মো. আনোয়ার ও মোহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন। এর আগে, সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মনিরা শারমিন গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট করেন।

গত ২৩ এপ্রিল রিটার্নিং কর্মকর্তা এনসিপি নেত্রীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। কারণ হিসেবে বলা হয়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ অনুযায়ী, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্য নন। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি ২৬ এপ্রিল নির্বাচন কমিশনে আপিল আবেদন জমা দেন। তবে পরদিন দীর্ঘ শুনানির পর নির্বাচন কমিশন তার আপিল খারিজ করে দেয়। এরপর তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

মনিরা শারমিনের হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চাকরি ছাড়েন। সে হিসাবে চাকরি ছাড়ার পর এখনও ৩ বছর পূর্ণ হয়নি।

সংসদে যাওয়ার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াইটা করা -মনিরা শারমিন : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমের জন্য শুভকামনা জানিয়ে দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেছেন, সংসদে যাওয়ার চেয়ে নিজের আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, এই লড়াই সফল হলে দেশের শিক্ষিত তরুণদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের পথ আরও সহজ হবে। গতকাল সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন মনির শারমিন।

স্ট্যাটাসে মনিরা শারমিন তার সহযোদ্ধা নুসরাতের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘নুসরাত আমার সহযোদ্ধা। ক্যাম্পাসে কঠিন সময়ে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে সে দাঁড়াইছে। জুলাইয়ের উত্তাল সময়ে সে রাজপথে ছিল। তার জন্য শুভকামনা।’

মনিরা শারমিন লিখেছেন, উচ্চ আদালতে তার করা রিটের শুনানি দুপুর ৩টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি জানান, সংসদে যাওয়ার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ আমার পক্ষে আমার নিজের এই আইনি লড়াইটা করা। এমপি যেই হোক সেটা নিয়ে আমি চিন্তিত না, বরং এই আইনি লড়াইটা আমি চালিয়ে যেতে চাই কারণ, এই আইনটা স্পষ্ট হলে অনেক শিক্ষিত তরুণের রাজনীতিতে আসার পথ সুগম হবে। আমি রাজনীতিবিদ, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া আমার কাজ। এটা ঠিকমতো করতে পারাই আমার জন্য সফলতা। আমার এই লড়াই যদি একজন তরুণকেও অনুপ্রাণিত করে, সেটাই আমার সার্থকতা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ক্যারিয়ার স্যাক্রিফাইস করে শিক্ষিত তরুণরা দেশ গড়ার কাজে আসতে পারুক, এই সুযোগ তারা পাক। এটা জুলাইয়ের কমিটমেন্ট। আমরা কথা দিছিলাম, সবাই মিলে দেশটা গড়ব। রাজনীতি ধান্দাবাজি, চাঁদাবাজির জায়গা না বরং ত্যাগের জায়গা- এটা প্রতিষ্ঠিত হোক আমার এই লড়াইয়ের মাধ্যমে।

নুসরাতের গেজেট প্রকাশ না করার আবেদন মনিরার : এদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের গেজেট প্রকাশ না করার আবেদন জানিয়েছেন মনিরা শারমিন। গত রোববার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দেওয়া এক চিঠিতে মনিরা শারমিন উল্লেখ করেন, তার দায়ের করা রিট পিটিশনের শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত নুসরাত তাবাসসুমকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা উচিত হবে না। অন্যথায় তিনি অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। চিঠিতে তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর তার মনোনয়নপত্র প্রথমে বাতিল করা হয় এবং পরে আপিলও খারিজ হয়ে যায়। এ অবস্থায় তিনি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন, যার শুনানির দিন নির্ধারিত রয়েছে ৪ মে। তাই আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের অপেক্ষা করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে, নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র প্রথমে গ্রহণ না করা হলেও আদালতের নির্দেশে তা বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং তাকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।