গরমে খান বাটারমিল্ক
প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
স্বাস্থ্য ডেস্ক

তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কোল্ড ড্রিংক বা প্যাকেটজাত জুস খাওয়ার লোভ বেড়ে যায়। এর বেশিরভাগই আমাদের অল্প সময়ের জন্য স্বস্তি দেয়। তাপপ্রবাহের সময় আমাদের শরীরের আসলে যা প্রয়োজন তা হলো এমন কিছু যা গভীরভাবে কাজ করে। এমন কিছু যা আমাদের ভেতর থেকে শীতল করে, শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করে এবং খাবার হজম করতে সাহায্য করে।
বাটারমিল্ক হতে পারে গরমের একটি সহজ সমাধান। ফুডস (MDPI) জার্নালে ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে MFGM -এর স্বাস্থ্য উপকারিতা দেখা গেছে, যা হলো একটি বায়োঅ্যাকটিভ যৌগ। এটি প্রাকৃতিকভাবে বাটারমিল্কে পাওয়া যায়। বিশ্লেষণটি ৪৬৪জন প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়ে ছয়টি র্যান্ডমাইজড নিয়ন্ত্রিত ট্রায়াল পর্যালোচনা করেছে এবং দেখা গেছে যে MFGM সম্পূরক মোট কোলেস্টেরল এবং LDL কোলেস্টেরলের মাত্রা অনেকটা হ্রাস করেছে।
আপনি কি কখনও লক্ষ্য করেছেন যে, গরমের দিনে খাবারের পরে কেমন লাগে? এসময় খাবারের পরে আপনি কীভাবে পেটফাঁপা এবং ভারী অনুভব করেন? তা হলো আপনার শরীর গরমের কারণে হজমশক্তি কমিয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞের মতে, অন্ত্র খুব গরম হয়ে গেলে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। বাটারমিল্ক সাহায্য করে কারণ এটি হালকা, সহজপাচ্য এবং এতে ব্যাকটেরিয়া রয়েছে যা আপনার অন্ত্রে সাহায্য করে। স্বাস্থ্যকর অন্ত্র শরীরকে খাদ্য শোষণ করতে এবং সারাদিন শক্তির মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। দুগ্ধজাত বা ঠান্ডা মিষ্টান্নের বাটারমিল্ক বাটারমিল্ক হালকা এবং এটি হজমে সাহায্য করে।
গরমে ঘামের মাধ্যমে আমাদের শরীর শুধু পানি হারায় না। এটি শরীর থেকে সোডিয়াম এবং পটাসিয়ামের মতো জিনিসগুলোও কেড়ে নেয়। শুধু পানি পানের মাধ্যমে এসবের প্রতিস্থাপন হয় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘামের মাধ্যমে আপনি পানি এবং ইলেক্ট্রোলাইট হারিয়ে ফেলেন। বাটারমিল্কের সঙ্গে এক চিমটি লবণ এবং জিরার মতো মসলা মিশিয়ে খেলে তা এই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। যা দ্রুত স্বস্তি দিতে পারে। বাটারমিল্ক শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এটি শরীরের ক্ষতি না করে তাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। অন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং তাপমাত্রা সম্পর্কিত এবং বাটারমিল্ক উভয়কেই সাহায্য করে। বাটারমিল্ক পান করার ক্ষেত্রে সময়টা গুরুত্বপূর্ণ। এটি সবচেয়ে ভালো কাজ করে যখন দুপুরের খাবারের পরে পান করা হয়, যখন হজম সক্রিয় থাকে। বাটারমিল্ক গভীর রাতে পান করলে তা সুফল নাও দিতে পারে।
