ঢাকা বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সুসংবাদ প্রতিদিন

কালীপুরের লিচুর খ্যাতি দেশজুড়ে

কালীপুরের লিচুর খ্যাতি দেশজুড়ে

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কালীপুরের সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ লিচু বাজারে উঠতে শুরু করেছে। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত ফলন এবং রোগবালাইয়ের আক্রমণ কম থাকায় এ অঞ্চলে লিচুর বাম্পার উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। এতে খুশি চাষি ও বাগান মালিকরা।

উপজেলার কালীপুর, বৈলছড়ি, পুকুরিয়া, জলদী, জঙ্গল চাম্বলসহ প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নের পাহাড়ি ও সমতল এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে লিচুর চাষ হয়ে আসছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এসব লিচুর স্বাদ ও গুণগত মানের কারণে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন বাগান ঘুরে দেখা যায়, গাছে গাছে ঝুলছে থোকায় থোকায় পাকা লিচু। প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা না থাকায় এ বছর গত বছরের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ফলন বেশি হলেও বাজারে দামের তেমন কমতি নেই। লিচুর আকার ও মানভেদে প্রতি ১০০টি লিচু ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মৌসুমের শুরু হওয়ায় বর্তমানে দাম কিছুটা বেশি। বাজারে সরবরাহ আরও বাড়লে দাম স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, বিশেষ করে সদর এলাকার বাজার ও রেজিস্ট্রি অফিস সংলগ্ন এলাকাগুলোতে লিচু কিনতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। স্থানীয় চাহিদার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পাইকাররাও বাগান ঘুরে লিচু কিনছেন। কেউ কেউ বিদেশে রপ্তানির উদ্দেশ্যেও বড় পরিসরে লিচু সংগ্রহ করছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বাগান মালিক নুরুল হক জানান, চলতি মৌসুমে তারা প্রায় ১৪টি বাগান ১২ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছেন। প্রতিটি বাগানে ১০০ থেকে ২৬০টি পর্যন্ত গাছ রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে কয়েক লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তারা। বর্তমানে পাইকারদের কাছে প্রতি হাজার লিচু ২ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলেও জানান তারা।

কালীপুরের একটি বাগান থেকে লিচু কিনতে আসা সাহাব উদ্দীন বলেন, কালীপুর স্কুলমাঠ, রাস্তার ধারে ও স্থানীয় বাজারে প্রচুর লিচু পাওয়া যাচ্ছে। এখানকার লিচু তুলনামূলকভাবে নিরাপদ, তাজা ও সুস্বাদু হওয়ায় দাম কিছুটা বেশি হলেও এখান থেকেই কিনি।

স্থানীয় লিচু চাষি নাছির উদ্দীন বলেন, মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় কিছুটা দুশ্চিন্তা ছিল। তবে শেষ দিকে বৃষ্টি হওয়ায় গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে এবং ফলনও বেড়েছে। এখন ঝড়ো হাওয়া বা অতিবৃষ্টিতে যাতে ক্ষতি না হয়, সেজন্য আমরা সতর্ক আছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র সরকার বলেন, বাঁশখালী উপজেলার প্রায় ৫৬৫ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে লিচুর চাষ হচ্ছে। চলতি বছর ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ব্রিটিশ আমল থেকেই কালীপুর অঞ্চলে জমিদার পরিবারের উদ্যোগে বোম্বাই, কলকাতা ও চায়না-থ্রি জাতের লিচুর চাষ শুরু হয়। পরে তা জলদী, পুকুরিয়া, সাধনপুর, চাম্বল ও নাপোড়াসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বাজারে চাহিদা বাড়ায় পাহাড়ি এলাকা ও বাড়ির আঙিনাজুড়ে লিচুর কলম ও নতুন বাগান তৈরির আগ্রহও বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত