না.গঞ্জে আবার গ্যাস বিস্ফোরণ প্রাণ গেল গৃহকর্তার

প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি ভাড়া বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন। গুরুতর অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফতুল্লার শিবু মার্কেট সংলগ্ন কুতুবপুর রাখিবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধ পরিবারটির গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উপজেলায়। আহতরা হলেন আব্দুল কাদের (৫০) এবং তার তিন ছেলে মেহেদী (১৭), সাকিব (১৬) ও রাকিব (১৬)।

প্রতিবেশী মো. ফারুক জানান, একতলা ভবনের একটি ইউনিটে ভাড়া থাকতেন আব্দুল কাদের। স্ত্রী ও তিন ছেলেকে নিয়ে সেখানে বসবাস করতেন তিনি। সকালে হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের মানুষ ছুটে যান। গিয়ে দেখা যায়, বাসার দরজা-জানালা ভেঙে গেছে এবং ঘরের ভেতর থেকে দগ্ধ অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা বের হচ্ছেন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, লিকেজ হয়ে জমে থাকা গ্যাস অথবা ফ্রিজের কম্প্রেসার থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, আব্দুল কাদেরের শরীরের ৫৭ শতাংশ, মেহেদীর ১৮ শতাংশ, সাকিবের ১৭ শতাংশ এবং রাকিবের ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।

তিনি আরও জানান, মেহেদী ও রাকিবের শ্বাসনালীও দগ্ধ হয়েছে। চারজনের অবস্থাই গুরুতর এবং তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

একদিন পর চলে গেলেন গৃহকর্তা : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় বাসায় গ্যাস লিক থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ গৃহকর্তা কালাম একদিন পর মারা গেছেন। গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন সেখানকার চিকিৎসক শাওন বিন রহমান।

৩৫ বছর বয়সি কালামের শরীরের ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। একই হাসপাতালে তার স্ত্রী সায়মা (৩২), ছেলে মুন্না (৭) এবং দুই মেয়ে কথা (৭) ও মুন্নি (১০) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সায়মার শরীরের ৬০ শতাংশ, মুন্নার ৩০, কথার ৫২ ও মুন্নির ৩৫ শতাংশ পুড়েছে। গত রোববার সকালে ফতুল্লার গিরিধারা এলাকার একটি বাড়িতে বিস্ফোরণে ৩ শিশু সন্তানসহ দগ্ধ হন এ দম্পতি।

পরে পাঁচজনকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। তাদেরকে ‘আশঙ্কাজনক’ অবস্থায় হাসাপতালে আনা হয় বলে জানিয়েছিলেন ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক শাওন বিন রহমান। কালাম পেশায় সবজি বিক্রেতা, তিনি স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ওই বাসায় থাকতেন।

ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, ওই বাসার একটি কক্ষের সঙ্গে থাকা রান্নাঘরে গ্যাস লাইনে লিকেজ ছিল। এতে বন্ধ কক্ষে গ্যাস জমে আগুনের সংস্পর্ষে এসে বিস্ফোরণ ঘটে।

এদিকে ফতুল্লারই আরেকটি বাসায় গত সোমবার সকালে গ্যাস লিক থেকে বিস্ফোরণে তিন সন্তানসহ বাবা দগ্ধ হয়েছেন। তাদেরকেও গুরুতর অবস্থায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।