ঈদ ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও মনিটরিং সেল চালু
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারা দেশে ঈদের সাতদিন আগে ও সাতদিন পরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ঈদযাত্রা নিরাপদ করা, পশুর হাট ব্যবস্থাপনা, চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ঈদুল আজহা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, কোরবানির পশুর হাটের নিরাপত্তা এবং সার্বিক প্রস্তুতিবিষয়ক সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঈদের আগের সাতদিন এবং পরের সাতদিন পুলিশ হেডকোয়ার্টারে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল চালু থাকবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার হটলাইন নম্বর সক্রিয় রাখা হবে। পুলিশ, র্যাব, আনসার-ভিডিপি, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, জেলা প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
পশুর হাটে বাড়ছে নিরাপত্তা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারা দেশের কোরবানির পশুর হাটে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১৫টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১১টি পশুর হাটের ইজারা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য মহানগর ও জেলা পর্যায়ে হাজারো হাট নির্ধারণ করা হয়েছে। হাটগুলোতে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং জালনোট শনাক্তকরণ বুথ বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে সক্রিয় থাকতে বলা হয়েছে।
চাঁদাবাজি রোধে নজরদারি
কোরবানির পশুবাহী ট্রাক ও নৌযানে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে এবং সিভিল ড্রেসে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। কোথাও চাঁদাবাজির তথ্য পাওয়া গেলে হটলাইনে জানালেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, গত ৩০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে চাঁদাবাজি, মাদক ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে।
নিরাপদ ঈদযাত্রায় বিশেষ ব্যবস্থা
সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনা কমাতে স্পিডগান ব্যবহার, রেকার প্রস্তুত রাখা এবং মহাসড়কের গর্ত দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফেরি ও লঞ্চে পশু পরিবহনেও নজরদারি বাড়ানো হবে। ফায়ার সার্ভিসের জরুরি নম্বর ১০২ সার্বক্ষণিক সক্রিয় থাকবে বলেও জানান তিনি।
শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের আহ্বান
ঈদের আগে পোশাক শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করতে মালিকপক্ষ, ব্যাংক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঈদের আগে যেন কোনও শ্রমিকের বেতন-বোনাস বকেয়া না থাকে- সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
