এপ্রিলে ৫২৭ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫১০

প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ৫২৭টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫১০ জন এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৬৮ জন। একই সময়ে ১৩৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৪২ জন, আহত হয়েছেন ১২৪ জন। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, সড়কপথে মোট দুর্ঘটনার ২৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ ছিল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় মোট নিহতের ২৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং আহতের ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার।

বিভাগভিত্তিক হিসেবে, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। সেখানে ১৩৫টি দুর্ঘটনায় নিহত ১৩৭ এবং আহত হয়েছেন ২৬৩ জন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে। এ বিভাগে ১৭টি দুর্ঘটনায় নিহত ১৮ এবং আহত হয়েছেন ৬৪ জন। যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানায়, এপ্রিল মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় জড়িত ৮০৫টি যানবাহনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। এর মধ্যে ২১ দশমিক ৮৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ও লরি এবং ১৪ দশমিক ২৮ শতাংশ বাস ছিল। এ ছাড়া ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, নছিমন-করিমন, ট্রাক্টর ও মাইক্রোবাসও দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ দুর্ঘটনা মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটেছে। এ ছাড়া ২৮ দশমিক ৮ শতাংশ গাড়িচাপা বা ধাক্কা, ২৩ দশমিক ৭১ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ঘটেছে। বাকি দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে অন্যান্য কারণে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের অবাধ চলাচল, সড়কে পর্যাপ্ত রোড সাইন ও আলোর অভাব, নির্মাণ ত্রুটি, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, উল্টো পথে চলাচল এবং অতিরিক্ত সময় ধরে গাড়ি চালানো দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো, দক্ষ চালক তৈরি, মহাসড়কে আলোকসজ্জা ও সার্ভিস লেন নির্মাণ, রোড সাইন ও ফুটপাত নিশ্চিত করা এবং পরিবহন খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, পরিবহন সেক্টর পরিচালনার পদ্ধতি আপাদমস্তক সংস্কার জরুরি। আমলাতন্ত্রের পরিবর্তে দেশি-বিদেশি পরিবহন বিশেষজ্ঞদের নিয়ন্ত্রণে পরিবহন সেক্টর পরিচালনা করা গেলে পরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ নিরসন, প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর মিছিল থামানো সক্ষম হবে। তাই নতুন সরকার পুরোনো পরিবহন পরিচালনা পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।