আইনজীবীদের ওপর ‘হামলা’

আলিফের ভাইয়ের মামলার তদন্ত করবে পিবিআই

প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও মামলার তদন্তে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ না হওয়ায় এবং তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষের কারণে তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তনের আবেদন করেন মামলার বাদী।

আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যার দিন আইনজীবীদের ওপর হামলার অভিযোগে তার ভাইয়ের করা মামলার তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দিয়েছে আদালত। বাদী পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিক বুধবার এই আদেশ দেন। এতদিন মামলাটির তদন্ত করছিল পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। আদালতের নির্দেশে এখন মামলাটি তদন্ত করবে পিবিআই।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ও চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সহকারী পিপি মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও মামলার তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় এবং তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষের কারণে তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তনের আবেদন করেন মামলার বাদী। ‘ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল তদন্তকারী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। শুনানি শেষে আদালত আমাদের আবেদন মঞ্জুর করেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পিবিআইকে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি উত্তর বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মোস্তফা কামাল এদিন শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। বাদীর আইনজীবী মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, ‘মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ১১৬ জন এবং অজ্ঞাতনামা আসামি ৪০০-৫০০ জন। এতদিনেও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি ডিবি।’ ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ হলে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করে তার অনুসারীরা। সেদিন আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময় দাসকে কারাগারে নিয়ে যায়।

বিক্ষোভকারীরা আদালত সড়কে রাখা বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও যানবাহন ভাঙচুর করে। এরপর আদালতের সাধারণ আইনজীবী ও কর্মচারীরা মিলে তাদের ধাওয়া করে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ওই বছরের ২৯ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানায় আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫/১৬ জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় অভিযোগ গঠন শেষে বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে আদালতে।

আইনজীবীদের ওপর হামলা, বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন আলিফের ভাই খানে আলম, যেখানে ১১৬ জনকে আসামি করা হয়। এর বাইরে আদালত এলাকায় সংঘর্ষ, ভাংচুর ও পুলিশের কাজে বাধার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করেছিল। ওই তিন মামলায় মোট ৭৬ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১ হাজার ৪০০ জনকে আসামি করা হয়।

হত্যা মামলাটি ছাড়া অন্য মামলাগুলো এখনও তদন্তাধীন।