‘গবাদিপশু প্রবেশ ঠেকাতে সতর্ক অবস্থানে বিজিবি’

প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

কোরবানি উপলক্ষ্যে সীমান্ত পথে অবৈধভাবে গবাদিপশু প্রবেশ ঠেকাতে সরকার, বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। গতকাল বৃহস্পতিবার মৎস্য অধিদপ্তরের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় লেকে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে গবাদিপশুর কোনো সংকট নেই। বাংলাদেশ বর্তমানে মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সীমান্ত পথে অবৈধভাবে গবাদিপশু প্রবেশ ঠেকাতে সরকার, বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১৮০ একর জলাশয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ উৎপাদন করা হলে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বছরে কয়েক কোটি টাকার আয় সম্ভব হবে। এত বড় জলাশয় থাকা সত্ত্বেও অতীতে এ সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আজ প্রায় ৩৯৫ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন মাছ চাষ না হওয়া এবং বাইরের পানির সঙ্গে সংযোগ থাকায় লেকগুলোতে রাক্ষুসে মাছ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে ছোট পোনার পরিবর্তে তুলনামূলক বড় আকারের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে, যাতে সহজে নষ্ট না হয় এবং টিকে থাকতে পারে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হলে কৃষি ও মৎস্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। ধান, পাট কিংবা মাছ-কোনো ক্ষেত্রেই এক ইঞ্চি জমি বা জলাশয় অনাবাদি রাখা যাবে না। পরিকল্পিত ও প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদের মাধ্যমেই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।

মন্ত্রী বলেন, দেশের ৭৫ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। কৃষকের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। এ লক্ষ্যেই সরকার কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, স্বল্পসুদে কৃষিঋণসহ বিভিন্ন কৃষিবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, দেশে কোরবানির জন্য যে পরিমাণ গরু, ছাগল ও ভেড়ার প্রয়োজন, তার চেয়েও বেশি প্রস্তুতি রয়েছে। ফলে বিদেশ থেকে পশু আমদানির কোনো প্রয়োজন হবে না। একইসঙ্গে সীমান্ত পথে অবৈধভাবে পশু প্রবেশ ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, চোরাচালানের মাধ্যমে কোনো পশু যেন দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষকেও এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।