সুসংবাদ প্রতিদিন
চাটমোহরে লিচুর ভালো ফলন বাজারে বিক্রি হচ্ছে চড়াদামে
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
কাকলী খাতুন, চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার চাটমোহরে লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। মৌসুমের শুরুতেই লিচু বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। এবার মৌসুম শেষ পর্যন্ত এ অঞ্চল থেকে লিচু প্রায় কোটি টাকা বিক্রি হবে বলে অনেকেই অভিমত ব্যক্ত করেন। উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান জানান, চাটমোহর উপজেলায় ৩৮০ হেক্টর জমিতে রসালো ও সুস্বাদু লিচুর আবাদ হচ্ছে। ছোট-বড় মিলিয়ে উপজেলায় রয়েছে ৩ শতাধিক লিচুর বাগান।
গত বছর এ এলাকায় উৎপাদিত মৌসুমি লিচুর বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১০০ কোটি টাকা। এ অঞ্চলে মোজাফফর (দেশি) জাতের লিচুর আবাদ হয়। এছাড়া চায়না, বেদানা, বোম্বাই জাতের লিচুও চাষ হচ্ছে। প্রতি বছর এ এলাকায় লিচু চাষ বেড়েছে ২০/২৫ হেক্টর। চাটমোহরে লিচু গ্রাম হিসেবে খ্যাত রামচন্দ্রপুর, জালেশ্বর, নতুনপাড়া, মন্ডলপাড়া, গুনাইগাছা, মল্লি¬কচক, পৈলানপুর, জাবরকোল গ্রাম। এ কয়েকটি গ্রামের মাঠের পর মাঠ আবাদ হয়েছে লিচু। তাছাড়া খৈরাশ, বামনগ্রাম, মহেষপুর, হরিপুর, কাটাখালী গ্রামে লিচুর চাষাবাদ রয়েছে। প্রতি বাগানে গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে লিচু। যেন লিচুতে গাছ ভরে গেছে।
চলতি বছরে প্রাকৃতিক কোনো ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ায় লিচু চাষিরা উচ্চ দামে বাগান বিক্রি করছেন। গত বছরের তুলনায় এবার লিচু বিক্রি করে চাষিরা লাভবান হয়েছেন। লিচু চাষি খলিলুর রহমান জানান, এ অঞ্চলে ব্যাপক পরিমাণে লিচুর চাষাবাদ হলেও সর্ব প্রথম কে লিচুর চাষাবাদ করেছিল তার সঠিক ইতিহাস কেউ বলতে পারেনি।
জানা যায়, ১৯৯০ সালের দিকে উপজেলার মন্ডলপাড়া গ্রামের প্রয়াত খোকা মন্ডল নামে এক ব্যক্তি প্রথমে লিচুর বাগান করেন। তার ওই ধারাবাহিকতায় পর্যায়ক্রমে লিচু আবাদের চাষাবাদ বাড়তে থাকে। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষাবাদ হচ্ছে। এ অঞ্চলের দেশি লিচু চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে।
লিচু চাষিরা জানান, এখানকার লিচু বাগান ২০ হাজার থেকে ৪/৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। লিচু চাষি আরিফুল ইসলাম মিঠু, হুমায়ন কবীর, হবিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম জানায়, এ মৌসুমে লিচু রক্ষা করতে রাতভর পাহাড়া দিতে হয়। অন্যস্থায় বাদুরের ঝাঁক এসে লিচু খেয়ে সাভার করে ফেলে।
বাগান মালিক মোহাম্মদ আলী, শফিকুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, শামসুল আলম, গোলাম মোস্তফা, আব্দুল আজিজ, রফিকুল ইসলামসহ অনেকেই লিচু বাগান বিক্রি সফলতা পেয়েছেন বলে তারা জানান।
বিশিষ্ট ব্যাপারি আবুল হোসেন জানায়, চলতি বছরে এ অঞ্চল থেকে প্রায় কোটি টাকার উপরে লিচু বিক্রি হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যাপারি এসে লিচু কেনার জন্য ভিড় জমে। প্রতিদিন ট্রাক ট্রাক ভর্তি লিচু ব্যাপারিরা কিনে- খুননা, বাগেরহাট, যশোর, ফেনী, চট্টগ্রাম, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাচ্ছে।
এবার নিম্ন শ্রেণির লিচুর হাজার ১ হাজার থেকে ৮০০ টাকা এবং ভালো মানের লিচু ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে তিনি জানান।
কীটনাশক ব্যবসায়ী মহাসিন আলী ও স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি বছর সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের খরচ কিছুটা বেড়েছে। তারপরও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে।
চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কুন্তলা ঘোষ বলেন, লিচু চাষ করে এ অঞ্চলে চাষিরা লাভবান হচ্ছেন, প্রতি বছর লিচুর চাহিদা বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লিচু চাষিরা লাভবান হচ্ছেন।
