গ্রাফিতি মোছার অভিযোগ নিয়ে চট্টগ্রামে উত্তেজনা

প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  চট্টগ্রাম ব্যুরো

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগ থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনার মধ্যে চট্টগ্রামের দেওয়ানহাট থেকে জিইসি মোড় পর্যন্ত জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে সেখানে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার (গতকাল) দুপুর ২টার দিকে ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’র ব্যানারে একদল ছাত্রছাত্রী টাইগারপাস মোড়ে জড়ো হন। তাদের হাতে রং ও তুলি ছিল। তারা মুছে ফেলা গ্রাফিতিগুলো নতুন করে আঁকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে আগে থেকেই মোতায়েন থাকা পুলিশ সদস্যরা তাদের বাধা দেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের বাগ্?বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরে অতিরিক্ত নারী পুলিশ সদস্যকে ঘটনাস্থলে আনা হয়। পুলিশ রঙের কৌটা ও ছবি আঁকার সরঞ্জাম কেড়ে নিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পুলিশ তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থীকে আটক করে নিয়ে গেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘কাউকেই আটক করা হয়নি। পুলিশ শুধু তাদেরকে জমায়েত হতে বাধা দিয়েছে।’

সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী ১৯৭৮ সালের সিএমপি অধ্যাদেশের ৩০ ধারা অনুযায়ী সভা সমাবেশে নিষেজ্ঞা দেন। নিষেধজ্ঞার গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেওয়ানহাট থেকে জিইসি মোড় এবং এর আশপাশের এলাকায় সব ধরনের সভা, সমাবেশ, জমায়েত ও মিছিল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিষিদ্ধ থাকবে। কেউ এই নির্দেশ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গতকাল সোমবার সকাল থেকেই টাইগারপাস, লালখান বাজার ও এর আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য অবস্থান নেন। টাইগারপাস এলাকা পরিদর্শনের সময় সিএমপির উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে আছি। এদিকে জুলাইয়ের গ্রাফিতি মুছে ফেলার কোনো নির্দেশ দেননি বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র শাহাদাত হোসেন।

মেয়র বলেন, আপনারা স্পটে (ঘটনাস্থলে) গিয়ে দেখতে পারেন, কোনো গ্রাফিতি মুছে ফেলা হয়নি। আমি কখনোই এ ধরনের নির্দেশ দিইনি এবং ভবিষ্যতেও দেব না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা আছে। গত রোববার রাতের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে মেয়র জানান, এনসিপি নেতা পরিচয় দিয়ে কয়েকজন যুবক তার কাছে এ বিষয়ে কথা বলতে এসেছিলেন।

মেয়র বলেন, আমাদের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তাদের নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে শুধু পোস্টার পরিষ্কার করছিলেন। তারা আমাকে জানিয়েছেন, কিছু গ্রাফিতির ওপর পোস্টার লাগানো ছিল, যার কারণে সেগুলো ঢাকা পড়েছিল। কিন্তু বেশিরভাগ পিলারের গ্রাফিতি অক্ষত আছে।

আন্দোলনের সময় আমি ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষার্থীদের গ্রাফিতি আঁকার কাজে সহায়তা করেছি।

গত রোববার রাত ১১টার দিকে টাইগারপাসে চসিক কার্যালয়ের ফটকের কাছে এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়।

গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এনসিপি ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা সেখানে মুখোমুখি অবস্থান নেন এবং পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।