এবার বাংলাসহ ৩৫ ভাষায় অনুবাদ ও সরাসরি সম্প্রচার হবে হজের খুতবা
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
হজ ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ, আর আরাফার ময়দান থেকে প্রচারিত হজের খুতবা এই মহান ইবাদতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগঘন অনুষঙ্গগুলোর একটি। প্রতি বছর বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান গভীর আগ্রহ নিয়ে এই ঐতিহাসিক খুতবা শোনেন। প্রযুক্তির উৎকর্ষ ও বৈশ্বিক যোগাযোগের বিস্তারের ফলে শুধু মক্কা বা আরাফার ময়দানে উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে এখন আর হজের খুতবা সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা পৌঁছে যাচ্ছে বিশ্বের নানা প্রান্তে, বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের কাছে। ২০২৬ সালের হজকে সামনে রেখে এ উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করেছে দুই পবিত্র মসজিদের ধর্মীয় বিষয়ক জেনারেল প্রেসিডেন্সি। এবার বিশ্বের মুসলমানদের জন্য হজের মূল খুতবা ৩৫টি ভাষায় সরাসরি অনুবাদ ও সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই খুতবা বিশ্বব্যাপী লাইভ প্রচার করা হবে।
দুই পবিত্র মসজিদের ধর্মীয় সেবায় সৌদি আরব-এর ভূমিকা নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে এ ঘোষণা দেন শায়খ আবদুর রহমান আস-সুদাইস।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার মসজিদে নামিরাহ থেকে আরাফার ময়দানের ঐতিহাসিক হজের খুতবা প্রদান করবেন প্রবীণ আলেম ও মসজিদে নববী-এর ইমাম শায়খ আলী হুজাইফি।
বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে হজের বার্তা নিজস্ব ভাষায় পৌঁছে দিতে প্রেসিডেন্সি ৩৫টি ভাষা অনুমোদন করেছে। এই তালিকায় রয়েছে— বাংলা, ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, ইন্দোনেশীয়, উর্দু, তুর্কি, ফার্সি, স্প্যানিশ, চীনা, রুশ, হিন্দি, মালয়, আমহারিক, হাউসা, সোয়াহিলি, সোমালি, পশতু, পাঞ্জাবি, তামিল, ফিলিপিনো, বসনিয়ান, জার্মান, ইতালীয়, পর্তুগিজ, সুইডিশ, উজবেক, তাজিক, নেপালি, সিংহলি, মালয়ালম, ওরোমো, তিগ্রিনিয়া, ইওরুবা, উগান্ডান ও লিথুয়ানিয়ান ভাষা।
এর ফলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে থাকা ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা হজের দিন আরাফার ময়দান থেকে প্রচারিত খুতবা সরাসরি দেখতে ও শুনতে পারবেন নিজেদের ভাষায়। এতে হজের শিক্ষা, দিকনির্দেশনা ও ইসলামের সার্বজনীন বার্তা আরও বিস্তৃতভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে।
হজের খুতবাকে বহু ভাষায় সম্প্রচারের এই উদ্যোগ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য, বোঝাপড়া ও ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে বাংলাভাষী মুসলমানদের জন্য এটি হবে হজের খুতবা সরাসরি উপলব্ধি ও অনুধাবনের এক অনন্য সুযোগ। প্রযুক্তির সহায়তায় ইসলামের মহান বার্তা এখন আরও সহজে পৌঁছে যাচ্ছে বিশ্বমানবতার দরজায়।
