কোলেস্টেরল বাড়ে ডিমে
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
স্বাস্থ্য ডেস্ক

শরীরের সুস্থতা নিয়ে আমরা নানাভাবে সচেতন থাকার চেষ্টা করি। কোন খাবারটি ক্ষতিকর, কোন খাবারটি উপকারী, সে সম্পর্কে কম-বেশি সবারই আমাদের ধারণা রয়েছে। কিছু খাবার আছে এমন, যেগুলো উপকারী হলেও সবাই খেতে পারবে কি না তা নিয়ে নানা মত থাকে। যেমন ধরুন ডিম। সবচেয়ে উপকারী খাবারের তালিকা করলে ডিম উপরের দিকেই থাকবে। কিন্তু যারা কোলেস্টেরলের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই উপকারী খাবারই বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। ডিম না আসলে, এক্ষেত্রে ডিমের কুসুম নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত থাকে মানুষ। ডিমের কুসুমকে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ানোর জন্য দায়ী করা হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আপনার উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে কি সত্যিই কুসুম এড়িয়ে চলতে হবে? চলুন জেনে নেওয়া যাক-
ডিমের কুসুমে স্বাভাবিকভাবেই উচ্চ মাত্রায় খাদ্যতালিকাগত কোলেস্টেরল থাকে। পুষ্টিবিদরা জানাচ্ছেন, একটি ডিমের কুসুমে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন ৩০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত কোলেস্টেরল গ্রহণ করতে পারেন। যে কারণে অনেকে মনে করেন যে ডিমের কুসুম খেলে তা দ্রুত নিরাপদ সীমা অতিক্রম করতে পারে।
পুষ্টিবিদদের মতে, ডিমে খাবারে থাকা ডায়েটারি কোলেস্টেরল বেশিরভাগ মানুষের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা অপরিহার্যভাবে বাড়িয়ে দেয় না। গবেষণায় স্পষ্টভাবে দেখা গেছে যে, ডায়েটারি কোলেস্টেরল নয়, বরং স্যাচুরেটেড ফ্যাটই শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সহজ কথায়, ডিমের মতো কোলেস্টেরলের প্রাকৃতিক উৎস গ্রহণের চেয়ে স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাবার খাওয়া বেশি ক্ষতিকর হতে পারে। এর মানে হলো, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে শুধুমাত্র ডিমের কুসুম এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে কার্যকর উপায় না-ও হতে পারে।
