ন্যায়পাল নিয়োগ না দেওয়া কেন অসাংবিধানিক নয়, জানতে চায় হাইকোর্ট
প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রশাসনিক অনিয়ম ও হয়রানি রোধে আইনি বিধান থাকার পরও দেশে ন্যায়পাল নিয়োগ না দেওয়ার সরকারি নিষ্ক্রিয়তা কেন অসাংবিধানিক হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট। একইসঙ্গে ন্যায়পালের কার্যালয় কার্যকর করতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইসরাত হাসানের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আব্দুর রহমান জিলানীর বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ রুল জারি করে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে (আইন ও বিচার বিভাগ এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ) এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
শুনানি শেষে রিটকারী ইসরাত হাসান বলেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম, হয়রানি, দীর্ঘসূত্রতা, ভোগান্তি সম্পর্কিত যেকোনো অভিযোগ তদন্ত করে সেবার মান উন্নয়ন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হচ্ছে ন্যায়পালের দায়িত্ব।”
তিনি বলেন, সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে একজন ন্যায়পাল থাকবেন, যিনি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা আমলাতান্ত্রিক আচরণ, অনিয়ম, হয়রানি, অবিচার, বাড়াবাড়ি ও কর্মসম্পাদনে অহেতুক বিলম্ব ইত্যাদি প্রশমন করে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করবেন। এ বিষয়ে ১৯৮০ সালে ‘ওম্বুডসম্যান অ্যাক্ট’ প্রণয়ন করা হয় জানিয়ে ইসরাত হাসান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘ সময়েও ন্যায়পাল নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
“সাংবিধানিক ম্যান্ডেট এবং সংবিধিবদ্ধ আইন থাকা সত্ত্বেও এত বছরে কোনো সরকারই আসলে ন্যায়পাল নিয়োগ করেনি। প্রশাসনিক দুর্নীতি, জনগণকে হয়রানি এবং বছরের পর বছর কাজ ফেলে রাখার বিরুদ্ধে যে একজন দেখাশোনা করবেন ও ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবেন, আইনে তাকে সে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এমনকি সমন দেওয়ার মতো আদালতের কিছু ক্ষমতাও তার জন্য প্রযোজ্য।”
রিটকারী ইসরাত বলেন, রিট আবেদন করার আগে বিবাদীদের আইনি নোটিস দেওয়া হলেও তারা কোনো জবাব দেননি। এরপর সরকারের এই নিষ্ক্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ করে আবেদনটি করা হয়।
আবেদনে বলা হয়, ন্যায়পাল নিয়োগ ও তার কার্যালয় প্রতিষ্ঠায় নিষ্ক্রিয়তা প্রদর্শন করা সংবিধানের ৭, ১১, ২৭, ৩১ এবং ৩২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি। দেশে সুশাসনের জন্য ন্যায়পালের নিয়োগ নিশ্চিত করে অফিসটিকে কার্যকর করার নির্দেশনা চাওয়া হয় আবেদনে।
