সুসংবাদ প্রতিদিন

মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষে স্বাবলম্বী কৃষক

প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  এ.এইচ.এম. আরিফ, কুষ্টিয়ার

এক সময় শুধুমাত্র পারিবারিক চাহিদা পূরণে বসতবাড়ির আঙিনায় লাউয়ের চারা লাগনো হতো। লাউ গাছের লতাপাতা ছোট মাচায়, গাছের ডালে অথবা ঘরের চালে উঠিয়ে দেওয়া হতো। এখন লাউয়ের ব্যাপক চাহিদা, উৎপাদন খরচ কম ও সময় কম লাগার কারণে বাণিজ্যিকভাবে লাউয়ের চাষ শুরু হয়েছে।

কুষ্টিয়ার মিরপুরে কৃষি জমিতে মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষ করে সাফল্য পাচ্ছেন চাষিরা। লাউ চাষে রাসায়নিক সার ও শ্রমিক খরচ অনেক কম। বাজারে রয়েছে এর ব্যাপক চাহিদা। মাটি থেকে ৫ ফুট উঁচু করে বাঁশের খুঁটি দিয়ে তৈরি করা হয় মাচা। এটি তার ও সুতালি দিয়ে শক্ত করে বাঁধা হয়। একবার মাচা তৈরি করলে সেখানে ৩-৪ বছর লাউসহ অন্যান্য সবজি চাষ করা সম্ভব। বিশেষ করে এই উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তারা মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষে ঝুঁকছেন বেশি।

মিরপুুর উপজেলার সবজি গ্রাম খ্যাত জগনাথপুর গ্রামের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা আবুল কালাম দুই বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে লাউ চাষ করেছেন। লাউ চাষে গত বছর অতি বৃষ্টির কারণে লোকসান হলেও এবার সফলতার স্বপ্ন দেখছেন। সরজমিনে তার লাউয়ের খেতে গিয়ে দেখা গেছে মাচায় থোকায় থোকায় ঝুলছে লাউ। লাউ কার্টনে ভর্তি করে বাজারজাত করা হচ্ছে। প্রতি কার্টনে ২৫টি লাউ ভর্তি করা হচ্ছে। এখন প্রতিদিন ৩ কার্টন করে লাউ বাজারজাত করছেন।

তরুণ কৃষি উদ্দোক্তা আবুল কালাম জানিয়েছেন, দেড় বিঘা জমিতে মাচা তৈরি করতে মোট ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। লাউ গাছের গোড়ায় মাত্র ৫ হাজার টাকার সার দেওয়া হয়েছে। বারি-৫ ময়না জাতের এই লাউ গাছে মাত্র ৫২ দিন পর থেকে ফলন ধরা শুরু হয়। এখন প্রতিদিন ৩ কার্টন লাউ কুষ্টিয়া শহরসহ ঢাকাতে পাঠানো হয়। কয়েকদিন পর থেকে লাউয়ের ফলন আরও বাড়বে। সব খরচ খরচা বাদ দিয়ে কার্টন প্রতি এখন ১ হাজার টাকা থাকে। কুষ্টিয়া এবং ঢাকা থেকে মোবাইল ফোনে ব্যবসায়ীরা টাকা পাঠিয়ে দেয়। তিনিও আরও জানিয়েছেন, এভাবে ১ মাস ধরে লাউ বাজারজাত করতে পারবো। তারপর আবার লাউয়ের নতুন চারা লাগানো হবে। এমন বাজার থাকলে মাসে ১ লাখ টাকা আয় হবে। বাজার ভালো হলে এর চেয়েও বেশি আয় করা যাবে। অনেক ফসল চাষ করেছি তারমধ্যে এটি একটি লাভজনক চাষ। আকুল কালামের মত এখানকার অনেক চাষি লাউ চাষ করে সফল হয়ে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন।

মিরপুর কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, মিরপুর উপজেলার অনেক জায়গায় বাণিজ্যিকভাবে মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ কৃষি উদ্যোক্তারা এই চাষে ঝুঁকছেন বেশি। কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে লাউয়ের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। লাউয়ের নতুন জাত, লাউ গাছের পরিচর্যা ও মাচা তৈরির পদ্ধতির বিষয়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।