সুসংবাদ প্রতিদিন

মেথি চাষে স্বপ্ন বুনছেন কৃষক

প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কাজী বাবলা, পাবনা

পাবনায় মেথি চাষ করে নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন বুনছেন কৃষক জিয়াউর রহমান। তার সবুজে ঘেরা মেথি খেত এখন স্থানীয় কৃষকদের পাশাপাশি পথচারীদেরও নজর কাড়ছে। খেত দেখতে এসে অনেক কৃষকই এখন মেথি চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার কয়ড়াবাড়ি গ্রামের মাঠে ঢুকতেই চোখে পড়ে সারি সারি মেথি গাছ। হালকা বাতাসে দুলছে সবুজ পাতার সমারোহ। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, যেন প্রকৃতি নিজের হাতে সবুজের এক বিশাল চাদর বিছিয়ে দিয়েছে। এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের মাঝেই ভবিষ্যতের সফলতার স্বপ্ন দেখছেন ঐ গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই কৃষির সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক। পারিবারিকভাবেই কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত তিনি। দীর্ঘদিন ধরে ধান, পাটসহ বিভিন্ন প্রচলিত ফসল চাষ করলেও সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে নতুন কিছু করার ইচ্ছা থেকেই এবার তিনি মেথি চাষে হাত দেন। শুরুতে কিছুটা সংশয় থাকলেও বর্তমানে ক্ষেতের অবস্থা দেখে তিনি আশাবাদী। তার ভাষায়, ‘ফসল এখনও কাটা হয়নি। তবে গাছের বৃদ্ধি, শিষের অবস্থা এবং মাঠের সামগ্রিক চিত্র দেখে মনে হচ্ছে, প্রতি বিঘায় চার থেকে পাঁচ মন পর্যন্ত মেথি উৎপাদন হতে পারে। আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকূলে থাকলে আশাতীত ফলন পাওয়ার আশা করছি।’

বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ মেথির দাম প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে বলে জানান তিনি। এই বাজারমূল্য ধরে রাখতে পারলে এ ফসল থেকে উল্লেখযোগ্য লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। তার মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও পরিশ্রম করলে মেথি চাষ কৃষকদের জন্য লাভজনক বিকল্প হতে পারে। তিনি আরও জানান, মেথি চাষে খরচ তুলনামূলকভাবে কম। প্রতি বিঘা জমিতে সেচ বাবদ প্রায় ২ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে এবং প্রায় ১৫ কেজি সার ব্যবহার করা হয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যা, আগাছা পরিষ্কার ও সময়মতো সেচ দেওয়ার কারণে ক্ষেতের অবস্থা এখন খুব ভালো।

ধানসহ প্রচলিত ফসলের তুলনায় মেথি চাষে ঝুঁকি কম এবং বাজারে এর চাহিদাও ভালো। তাই আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে মেথির আবাদ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে এই এলাকায় মূলত ধান ও পাটের চাষ বেশি হলেও এখন অনেক কৃষক নতুন লাভজনক ফসলের দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে মেথির বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় এটি স্থানীয় কৃষকদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এই ক্ষেত দেখতে এসে অনেক কৃষকই এখন মেথি চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ হোসেন জানান, কয়ড়াবাড়ি মাঠে এমন সবুজ মেথির খেত আগে খুব একটা দেখা যেত না। এ উদ্যোগ সফল হলে এটি এলাকায় কৃষিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

আটঘরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মাহমুদা মোতমাইন্না বলেন, আটঘরিয়ার মাটি ও আবহাওয়া মেথি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষকরা যদি সঠিক সময়ে বীজ বপন, নিয়মিত সেচ এবং সুষম সার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করেন, তাহলে এ ফসলে আশাতীত ফলন পাওয়া সম্ভব। তিনি আরও বলেন, মেথির মতো উচ্চমূল্যের ফসল কৃষকের আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা চাই কৃষকেরা প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি এ ধরনের লাভজনক ফসলের দিকেও ঝুঁকুক। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ, মাঠ পর্যায়ে তদারকি এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।