মে মাসে নারী ও শিশু নির্যাতন ৩২৬, ধর্ষণ বেড়েছে ৪৪%
প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) প্রকাশিত সর্বশেষ জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা মনিটরিং প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, চলতি বছরের মে মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট ঘটনা আগের মাসের তুলনায় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা, যৌন হয়রানি এবং আত্মহত্যার মতো ঘটনাগুলোর ঊর্ধ্বগতি গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গতকাল রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিল মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট ঘটনা ছিল ৩১২টি, যা মে মাসে বেড়ে ৩২৬টিতে পৌঁছেছে। অর্থাৎ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে সহিংসতার চিত্র আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে ধর্ষণের ঘটনা। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে ধর্ষণের ঘটনা ছিল ৫৪টি, যা মে মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮টিতে। অর্থাৎ এক মাসেই প্রায় ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এই অপরাধ। একই সময়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ১৪ থেকে বেড়ে ১৬টিতে এবং ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ২ থেকে বেড়ে ৬টিতে পৌঁছেছে। যৌন হয়রানির ঘটনাও ১৭ থেকে বেড়ে ১৮টি হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের সামাজিক নিরাপত্তা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। এমএসএফের মতে, এসব পরিসংখ্যান সমাজে নারী ও শিশুদের ক্রমবর্ধমান অনিরাপদ অবস্থারই প্রতিফলন।
এদিকে মে মাসে নতুন উদ্বেগ হিসেবে সামনে এসেছে অনলাইন জুয়া ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধের বিস্তার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনলাইন জুয়াকে কেন্দ্র করে একজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এবং এ-সংক্রান্ত অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে মাদকসংশ্লিষ্ট ঘটনায় চারজন নিহত, ১৯ জন আহত এবং ১৫ জন আটক হয়েছেন। পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের দুটি ঘটনা এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে পুলিশের সম্পৃক্ততার তিনটি অভিযোগও প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছে। এমএসএফের নির্বাহী সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতনের ধরন দিন দিন আরও জটিল ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে প্রকাশ্য সহিংসতার ঘটনা কমেছে, তবে যৌন সহিংসতা, ডিজিটাল অপরাধ, অনলাইন জুয়ার বিস্তার এবং সামাজিক অবক্ষয়ের বিভিন্ন সূচক আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু আইন প্রয়োগ নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
