‘তামাকের প্রভাব থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর’
প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশু-কিশোরসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সুরক্ষিত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। গতকাল রোববার বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’।
তারেক রহমান বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশ-২০০৩ সালে এফসিটিসি-তে স্বাক্ষর, ২০০৪ সালে অনুসমর্থন এবং ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করে। এর ধারাবাহিকতায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরো শক্তিশালী করতে সংশোধন আনা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘তামাকে বিদ্যমান নিকোটিন মারাত্মক আসক্তি সৃষ্টি করে। বিড়ি, সিগারেট, ই-সিগারেট, জর্দা, গুলসহ যেকোনো তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার হৃদরোগ, স্ট্রোক, বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার এবং ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগসহ অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, তামাকের প্রলোভন থেকে শিশু-কিশোরদের সুরক্ষার লক্ষ্যে তামাকজাত দ্রব্যের সব ধরনের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও প্রমোশন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অ্যাপস, ওটিটি প্ল্যাটর্ফম, নাটক-সিনেমাসহ সব মাধ্যমেই তামাকের প্রচারণা নিষিদ্ধ। করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) আড়ালে তামাক কোম্পানির প্রচার-প্রচারণাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশু পার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ১৮ বছরের নিচে তামাক ও নিকোটিন পণ্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণও বৃদ্ধি করা হয়েছে। তারেক রহমান বলেন, ‘নতুন বিধিবিধানের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এখন সময়ের দাবি। জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যর বরাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগে ঘটে, যার একটি প্রধান ঝুঁকির কারণ তামাক ও নিকোটিনের ব্যবহার। টোব্যাকো এটলাস ২০২৫ অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর তামাকজনিত রোগে ১ লাখ ৯৯ হাজারের বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করে।’ এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের গবেষণার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘তামাক ব্যবহারের ফলে স্বাস্থ্য ব্যয়, পরিবেশগত ক্ষতি ও উৎপাদনশীলতা হ্রাসসহ দেশের অর্থনীতিতে বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি।’
তামাকের বিরুদ্ধে তরুণদের সচেতন করতে প্রশাসনসহ সবাইকে কাজ করার আহ্বান : রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তামাকের বিরুদ্ধে জনগণকে বিশেষ করে তরুণদের সচেতন করতে প্রশাসন, নাগরিক সমাজ, সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও সর্বোপরি গণমাধ্যমগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল রোববার ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এই আহ্বান জানান। দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’।
মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘তামাক চাষ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তামাক পণ্যের ব্যবহার ক্যান্সার, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল ও প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রতি বছর তামাকজনিত রোগে প্রায় ২ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করে। পরিবারের কর্মক্ষম মানুষের অসুস্থতা ও অকাল মৃত্যুতে পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে পড়ে। জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতি ব্যাহত হয়।’ রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘কিন্তু পক্ষান্তরে, তামাক ও তামাকজাত পণ্য বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ভ্রান্ত প্রলোভনের আকর্ষণীয় প্রচারণার ফাঁদে পড়ে অনেক তরুণ ও যুবক তামাক ও ধূমপানে আসক্ত হয়ে পড়ছে। পরবর্তীতে অনেকে জড়িয়ে পড়ছে মাদকের মরণ নেশায়। এজন্য ব্যাপক জনসচেতনতা ও আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি।’ মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ২০০৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল’-এ স্বাক্ষর এবং ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫’ প্রণয়ন করে-যা ছিল তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।’ তিনি বলেন, ‘এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। আমি বিশ্বাস করি, এই আইনের সঠিক বাস্তবায়ন ও কঠোর প্রয়োগ তামাকের করাল গ্রাস থেকে নারী, শিশু ও তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
