৬ নবজাতকের মৃত্যু নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আলোচনা
আদ-দ্বীন হাসপাতাল
প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় পদক্ষেপ নিতে আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখতে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সচিবালয়ে গতকাল সোমবার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ‘আইনি দিকগুলো’ খতিয়ে দেখতে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি যেন ‘আইনসম্মত’ উপায়ে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করতেই সরকারের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেলকে এই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এ সময় একজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলও উপস্থিত ছিলেন বলে?ও জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী বুধবারের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘তদন্ত রিপোর্ট আরও ‘প্র্যাকটিক্যাল হওয়া প্রয়োজন’ দাবি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তবে তদন্ত রিপোর্টটি যাতে আরও গতিশীল ও প্র্যাকটিক্যাল হয়, সেজন্য ভুক্তভোগী শিশুদের মায়েদের সাথে সরাসরি কথা বলা প্রয়োজন। “একই সাথে ঈদের ছুটির কারণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে যে আইনি তদন্ত কমিটি গঠনের বাধ্যবাধকতা ছিল, তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। খুব দ্রুতই ডিজি মহোদয়ের পক্ষ থেকে এই কমিটি গঠন করা হবে এবং আগামী ৩ মের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।” তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কোরবানির ঈদের আগের দিন বুধবার ভোরের দিকে আদ-দ্বীন হাসপাতালের ‘পোস্ট অপারেটিভ’ ওয়ার্ডে থাকা ছয় শিশুর সবাই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং একে একে তাদের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় দেশব্যাপী ‘গভীর উদ্বেগ, শোক ও ক্ষোভের’ সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় রমনা থানায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ এরই মধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে। পরে বিষয়টি তদন্ত করতে গঠিত কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। সে অনুযায়ী আংশিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে ৩ জুন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের জন্য সময় চেয়েছে কমিটি। এরই প্রেক্ষিতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় বাড়িয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
আদ্ব-দ্বীন হাসপাতালে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারমুখী আচরণ ও হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
হাসপাতালে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গণমাধ্যমকর্মীদের সর্বত্র যাওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে চিকিৎসাধীন রোগীদের যেন কোনো সমস্যা না হয়, সেটি দুই পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে ঠিক করা উচিত। “কোনো অবস্থাতেই সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া বা তাদের ওপর হামলা করা গ্রহণযোগ্য নয়।”
একই সাথে হাসপাতালের ভেতরে একটি ‘অবৈধ’ বেকারি পরিচালনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “আমরা গতকাল স্বশরীরে ওই বেকারিটি দেখেছি এবং আজ পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদেরও ডেকেছি। তারা কীভাবে এবং কেন সেখানে লাইসেন্স দিয়েছিল, তা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
বিগত দিনে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর কার্যক্রমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নজরদারির অভাব ছিল কী না প্রশ্নের জবাবে তিনি অতীতের কোনো বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে বর্তমানে দেশজুড়ে ক্লিনিক ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে এরইমধ্যে পরিদর্শন ও তদারকি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
