কম্প্রেসার নষ্ট হয় যে ভুলে
প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
প্রযুক্তি ডেস্ক

বাংলাদেশে গ্রীষ্মকাল ও বৈরী আবহাওয়ার সময়ে অনেক এলাকায় নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা যায়। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই ফ্রিজ চালু করে দেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস ফ্রিজের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং এর কার্যক্ষমতা ও স্থায়িত্ব কমিয়ে দিতে পারে। ফ্রিজ বর্তমানে প্রায় সব পরিবারেরই অপরিহার্য একটি গৃহস্থালি যন্ত্র। খাবার, ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংরক্ষণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর এবং ফিরে আসার সময় ফ্রিজ ব্যবহারে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিদ্যুৎ না থাকাকালে ফ্রিজের দরজা বারবার খোলা উচিত নয়। দরজা বন্ধ থাকলে ভেতরের ঠান্ডা তাপমাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকে, ফলে খাবারও তুলনামূলক নিরাপদ থাকে। বিদ্যুৎ ফিরে আসার পর সঙ্গে সঙ্গে ফ্রিজ চালু না করে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়ার পর প্রথম দিকে ভোল্টেজে ওঠানামা হতে পারে, যা ফ্রিজের কম্প্রেসারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সাধারণভাবে ৫ থেকে ১০ মিনিট অপেক্ষা করে ফ্রিজ চালু করা নিরাপদ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। যেসব এলাকায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করে, সেখানে ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার বা সার্জ প্রটেক্টর ব্যবহার করলে ফ্রিজ অতিরিক্ত সুরক্ষা পেতে পারে। এতে কম্প্রেসার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক অংশ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়।
এছাড়া বিদ্যুৎ বারবার আসা-যাওয়ার সময় ফ্রিজ ঘন ঘন চালু ও বন্ধ করা উচিত নয়। এতে যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল হওয়ার পর ফ্রিজ চালু করাই ভালো। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তাই বিদ্যুৎ ফিরে এলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে সেটিংস পুনরায় সমন্বয় করে নেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে সংরক্ষিত খাবারের অবস্থাও যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে মাছ, মাংস, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে কোনো অস্বাভাবিক গন্ধ, রঙ বা পরিবর্তন দেখা গেলে সেগুলো ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লোডশেডিংয়ের পর সামান্য কিছু সতর্কতা- যেমন ভোল্টেজ স্থিতিশীল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা, ফ্রিজের দরজা অযথা না খোলা এবং সুরক্ষা ডিভাইস ব্যবহার করা- ফ্রিজের আয়ু বাড়াতে ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমাতে সহায়ক হতে পারে।
