বিদেশে কর্মী পাঠাতে কোনো সিন্ডিকেট বা দুর্নীতি চলবে না

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক। তিনি বলেন, জনশক্তি রপ্তানি খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে। গতকাল মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন।

আরিফুল হক বলেন, আমি প্রথম দিন থেকেই বলে আসছি, কোনো ধরনের সিন্ডিকেটের সুযোগ থাকবে না। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। মন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কার্ড হলে এখানে আর বিএমইটি কার্ড থাকবে না। একটা কার্ড দিয়ে প্রবাসীরা যেন, সব ফ্যাসিলিটি এনজয় করতে পারে সেই লক্ষে আমরা কাজ করছি। কারণ এত কার্ড দিয়ে কি করবে।

রাশিয়ায় মানবপাচার এবং কিছু রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসের অনুমোদন ছাড়া কোনো কাগজপত্র বা কার্ড ইস্যুর ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হবে।

প্রবাসীদের অভিযোগ ও সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষে মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা তাদের সমস্যা, বিনিয়োগসংক্রান্ত জটিলতা কিংবা প্রশাসনিক হয়রানির বিষয়ে সরাসরি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। আরিফুল হক বলেন, অনেক প্রবাসী, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত শ্রমিকরা ই-মেইল ব্যবহারে অভ্যস্ত নন। তাই হোয়াটসঅ্যাপসহ সহজ যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি রয়েছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে সুসংবাদ পাওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, শ্রমবাজার খুললে সেটি হবে স্বচ্ছ ও সিন্ডিকেটমুক্ত। অতীতের মতো কোনো গোষ্ঠীকে একক সুবিধা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। প্রবাসীদের জন্য একটি ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীরা এ কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সরকারি ও বেসরকারি সেবা গ্রহণে বিশেষ সুবিধা পাবেন।

মন্ত্রী জানান, ব্যাংকিং সুবিধা, ডিজিটাল পরিচয়, ভূমিসংক্রান্ত সেবায় অগ্রাধিকার এবং স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়গুলো বর্তমানে পর্যালোচনাধীন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশের ১০১টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এবং জনশক্তি রপ্তানি ব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত করা অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। এটি আমার অন্যতম অঙ্গীকার। যদি এই খাতকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে না পারি, তাহলে নিজেকে সফল মনে করব না। এসময় প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক ও সচিব মোখতার হোসেন উপস্থিত ছিলেন। প্রবাসীদের অভিযোগ দ্রুত সমাধানে মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সেল গঠন : বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি ও নিরসন সেল’ গঠন করেছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করেছে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা। আদেশে বলা হয়েছে, এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। আদেশ অনুযায়ী, পাঁচ সদস্যের এই সেলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং ও এনফোর্সমেন্ট অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্ম সচিব। সেলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন কল্যাণ অধি শাখার যুগ্ম সচিব, আইন শাখার উপসচিব, সেবা ও প্রটোকল শাখার উপসচিব এবং এনফোর্সমেন্ট-২ শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব। এর মধ্যে এনফোর্সমেন্ট-২ শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী সেলে অতিরিক্ত সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগও রাখা হয়েছে বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় আশা করছে, নতুন এ সেলের মাধ্যমে প্রবাসীদের অভিযোগ ও বিভিন্ন সমস্যার দ্রুত ও কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।