দিল্লির হোটেলে ভয়াবহ আগুনে ২১ জনের মৃত্যু

নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশিও আছেন

প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতের দিল্লি নগরীর এক আবাসিক হোটেল ও নিচে থাকা রেস্তোরাঁয় আগুন লেগে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। হোটেলটি থেকে ৪০ জনেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে মালভিয়া নগরের ফ্লোরিশ স্টে হোটেলের পাঁচতলা ভবনের বেজমেন্টের লেমন গ্রিন রেস্তোরাঁয় আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর আগুন পার্শ্ববর্তী মিকাসা ইন হোটেল ছাড়িয়ে পড়ে, খবর ভারতীয় গণমাধ্যমের। এনডিটিভি জানিয়েছে, আগুন লাগার খবর পেয়ে দমকলের কয়েকটি গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে হাজির হয়। এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনাস্থলে দুটি পানির ইঞ্জিন, দুটি পানির বাউসার, একটি দ্রুত-প্রতিক্রিয়া যান ও অন্যান্য অগ্নিনির্বাপক ইউনিট পাঠানো হয়েছে। মালভিয়া নগর মূলত দিল্লির একটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা। বাসিন্দাদের অনেকেই শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবী।

আগুন ছড়িয়ে পড়ার সময় ফ্লোরিশ স্টে হোটেল ভবনটিতে প্রায় ৪০ জনের মতো অতিথি ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন লাগার কারণ পরিষ্কার হয়নি। এক ভিডিওতে আগুন থেকে বাঁচতে কিছু লোককে ভবনের উপরের তলাগুলো থেকে লাফিয়ে পড়তে দেখা গেছে। পতনের আঘাত কমাতে নিচে তোশক বিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এক প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগুন থেকে বাঁচতে চার থেকে ছয়জন মানুষকে ভবনটি থেকে লাফিয়ে পড়তে দেখেছি আমি। নিচে পড়ার পর তাদের মধ্যে একজনের পা ভেঙে গেছে বলে মনে হয়েছে।’

হুজরানি এলাকার সরু একটি গলির ভেতর হোটেলটির অবস্থান। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হোটেলটিতে প্রায় ২৫টি রুম আছে আর সেখানে প্রায় ৪০ জনের মতো অতিথি ছিল যাদের অধিকাংশই চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়া বিদেশি নাগরিক। দক্ষিণ দিল্লির একটি নামকরা হাসপাতাল নিকটবর্তী হওয়ায় দিল্লিতে চিকিৎসা করতে আসা অনেকেই থাকার জন্য ফ্লোরিশ স্টে হোটেলটিকে বেছে নেন। যখন আগুনের সূত্রপাত হয় তখন হোটেলের অধিকাংশ অতিথিই ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিভিন্ন সূত্র এনডিটিভিকে জানিয়েছে, দিল্লির সরকার ফ্লোরিশ স্টে-কে ‘বেড এন্ড ব্রেকফাস্ট’ ধারণার ভিত্তিতে নিবন্ধন দিয়েছিল। এই অনুমোদন অনুযায়ী, হোটেলটিতে মাত্র ছয়টি রুম থাকার কথা। কিন্তু হোটেলটিতে ২৫টি রুম আছে বলে খবর। এমনকী তাদের বেজমেন্টেও রুম ছিল। হোটেলটির অগ্নি নিরাপত্তা ছাড়পত্র ছিল কি না, কর্তৃপক্ষ তাও খতিয়ে দেখছে। হোটেলটির প্রবেশ ও বের হওয়ার পথও মাত্র একটি।

হোটেলটির রেস্তোরাঁয় কাজ করা শেফ কেসর সিং জানান, সকাল প্রায় ৮টার দিকে তিনি একটি বৈদ্যুতিক চুলার সুইচ অন করার চেষ্টা করতেই হঠাৎ করে আগুন জ্বলে ওঠে। দ্রুতই তিনি বুঝতে পারেন আগুন হোটেলটিকে গ্রাস করে ফেলেছে।

‘আমি তৎক্ষণাৎ আমার সহকারীকে বলি যে হোটেলটিতে আগুন লেগেছে।

যখন আমি বের হই দেখি পুরো হোটেলে আগুন জ্বলছে। আমি কোনোরকমে বের হতে পেরেছি,’ বলেন সিং।

এ ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ভারত সরকার নিহতদের পরিবারগুলোকে ২ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ ও আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার রুপি বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে।

দিল্লির অগ্নিকাণ্ডে ৫ বাংলাদেশি আহত : ভারতের রাজধানী দিল্লির মালব্য নগরের একটি রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিদেশি নাগরিকসহ অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) সকাল পৌনে ১০টার দিকে দক্ষিণ দিল্লির জনবহুল এলাকার লেমন গ্রিন রেস্তোরাঁয় ওই অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ বাংলাদেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হাইকমিশন আহতদের পরিচয় জানাতে পারেনি।

হাইকমিশন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিক আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে তিনজন সাকেতের ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং আরও দুজন সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাইকমিশন ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং তাদের অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে হাইকমিশন আরও জানায়, শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা এবং এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই। আমরা আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি এবং উদ্ধার ও আপৎকালীন উদ্ধার কর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করি।