অল্প বয়সেই চুল পাকছে
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
স্বাস্থ্য ডেস্ক

আপনার চুলের রং নির্ভর করে ফলিকেলের মেলানিনের ওপর। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুলের ফলিকেলে মেলানিন তৈরির ক্ষমতা কমে আসে। তাই ধীরে ধীরে চুল সাদা কিংবা ধূসর হতে শুরু করে। কিন্তু অল্প বয়সে চুল পাকার নেপথ্যে রয়েছে একাধিক কারণ। যেমন- জিনগত প্রভাব, স্ট্রেস, ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি ও থাইরয়েডের সমস্যা।
অনেকেই পাকা চুল কালো করতে হেয়ার কালার কিংবা ডাই ব্যবহার করে থাকেন; কিন্তু তাতে চুলের বারোটা বাজে। কাজেই ভরসা রাখুন ঘরোয়া কিছু টোটকায়। আপনার চুলের কোনো ক্ষতি না করেই চুল হবে কুচকুচ কালো। কিছু ঘরোয়া উপায়ে সাদা চুল হবে কুচকুচে কালো এবং সঙ্গে বাড়বে চুলের জেল্লা, চুল হবে মসৃণ ও চুল পড়াও কমবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কীভাবে চুল কুচকুচে কালো করবেন-
আমলকী ও মেথির প্যাক : আমলকীতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। মেথিগুঁড়োতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। মেথিগুঁড়ো ও ভিটামিন ‘সি’ একসঙ্গে মিলে চুল পাকা রোধ করে। এছাড়া এই প্যাকটি আপনার চুলের গোড়া মজবুত করতে সাহায্য করে এবং চুলে পুষ্টি জোগায়। এছাড়া প্যাকটি বানাতে লাগবে ৬-৭ টুকরো আমলকী, ১ টেবিল চামচ মেথি ও ৩ টেবিল চামচ তেল অলিভ অয়েল অথবা নারিকেল তেল। একটি পাত্রে তেল গরম করুন। তেল ভালোভাবে গরম হলে এতে আমলকী দিয়ে নাড়ুন। কিছুক্ষণ পর এতে মেথিগুঁড়ো দিন। সব উপাদান ভালোভাবে মিশিয়ে গেলে আঁচ থেকে নামিয়ে নিন। এবার একটি বোতলে তেলটি ভরে রাখুন এবং ঠান্ডা হলে চুলে মাখুন। চেষ্টা করুন, সারারাত প্যাকটি মাথায় রাখতে। সকালে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।
আলুর খোসা : সাদা চুল কালো করতে আলু খুব কার্যকরী। আলুর খোসায় স্টার্চ থাকে, যা চুলে রঙিন রঞ্জক ধরে রাখে এবং চুলকে সাদা হতে দেয় না। একটি পাত্রে দুই কাপ পানিতে আলুর খোসাগুলো দিয়ে দিন। এবার পানি না ফুটে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। গরম হলে নামিয়ে ফেলুন। চুলে শ্যাম্পু করার পর আলুর খোসার পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। আলুর খোসার পানি ব্যবহারের পর আর পানি ব্যবহার করবেন না। এটি সপ্তাহে দুবার চুলে ব্যবহার করুন।
নারিকেল তেল ও লেবুর রস : চুলের যত্নে নারিকেল তেলের জুড়ি মেলা নেই। এটি চুলের ময়েশ্চারাইজার ধরে রাখে, চুলের বৃদ্ধি বাড়ায় এবং চুলে পুষ্টি জোগায়। লেবুতে আছে ভিটামিন ‘সি’। এই প্যাকটি নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল পাকা কমে যায়। তিন-চার চামচ নারিকেল তেলের সঙ্গে তিন-চার চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এ মিশ্রণটি মাথার স্ক্যাল্পসহ গোটা চুলে ব্যবহার করুন। এক বা দুই ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক সপ্তাহে একবার ব্যবহার করুন।
মেহেদি ও কফির পেস্ট : মেহেদি চুলের জন্য খুব ভালো। এটি প্রাকৃতিকভাবে চুলকে লাল করে। অন্যদিকে কফিতে রয়েছে ক্যাফিনের মতো শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা চুল মজবুত ও উজ্জ্বল করে। এই প্যাকটি চুলের গোড়া মজবুত করতেও কার্যকরী। ফুটন্ত পানিতে এক টেবিল চামচ কফির গুঁড়ো মিশিয়ে দিন। মিশ্রণ ফুটে উঠলে নামিয়ে ফেলুন। হেনা পাউডার অথবা পেস্টের সঙ্গে কফি মেশান। প্যাকটি ঘণ্টাখানেক রেখে চুলে ব্যবহার করুন। এক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। আপনি চাইলে এ মিশ্রণে নারিকেল অথবা অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন।
কারিপাতা : কারিপাতায় আছে ফলিক অ্যাসিড, বিটা-ক্যারোটিন, প্রোটিন, আয়রনসহ আরও অনেক ভিটামিন, যা চুল কালো করে। নারিকেল তেলের সঙ্গে মেশালে এর কার্যকারিতা আরও বেড়ে যায়। এক টেবিল চামচ নারিকেল তেলের মধ্যে একমুঠো কারিপাতা দিয়ে ফুটিয়ে নিন। ঠান্ডা হয়ে গেলে এ তেলটি চুলে ম্যাসাজ করুন। ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। এ প্যাকটি সপ্তাহে এক থেকে দুবার ব্যবহার করুন।
