সচেতন গ্রাহক ফোরামের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
ইসলামী ব্যাংক বিষয়ে উদ্বেগ এবিবির
প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মো. খুরশিদ আলমের পদত্যাগসহ ৬ দফা দাবিতে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র অধ্যাপক নুর উন-নবী।
তিনি বলেন, আমাদের গ্রাহকবৃন্দের যে ছয় দফা দাবি ছিল, সেই দাবিগুলো সম্মিলিতভাবে স্মারক আকারে আমরা অর্থ মন্ত্রণালয় পৌঁছে দিয়েছি। আমরা আশা করব আমাদের দাবিগুলো আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। যদি আমাদের দাবিগুলো মানা না হয়, তাহলে সারাদেশের গ্রাহকদের নিয়ে আরও বড় পরিসরে কর্মসূচি ঘোষণা করব।
গতকাল বুধবার দুপুর ১টার দিকে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি জমা দেওয়া শেষে উপস্থিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
অধ্যাপক নুর উন-নবী বলেন, আমাদের গ্রাহকদের যে ছয় দফা দাবি ছিল, সেই দাবিগুলো সম্মিলিতভাবে স্মারক আকারে আমরা অর্থ মন্ত্রণালয় পৌঁছে দিয়েছি। আমাদের দাবি ইসলামী ব্যাংকের অবৈধ চেয়ারম্যানকে অপসারণ করতে হবে এবং যারা ব্যাংকের অর্থ লুটপাট করেছে তাদের কাছ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে হবে। ব্যাংকের মালিকানা স্থায়ীভাবে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। যারা লুটপাট করেছে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের এই দাবিগুলো আমরা স্মারকলিপি আকারে অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। যেহেতু আমাদের দাবিগুলো যৌক্তিক, আমরা আশা করি যে আজকের মধ্যে আমাদের সব দাবি পূরণ করা হবে।
সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক বলেন, আজকের মধ্যে যদি আমাদের এই দাবিগুলো পূরণ করা না হয়, তাহলে আগামীকাল আমরা ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটি বসে আরও বড় ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করব। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবো। ৩ কোটি গ্রাহক সবাইকে নিয়ে আমরা আগামী দিনে আরও বড় পরিসরে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে বাধ্য করব চেয়ারম্যানের অপসারণ নিশ্চিত করতে।
এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে সচিবালয়ে অভিমুখে যাওয়ার পথে পল্টন মোড়ে মিছিলটি থামিয়ে দেয় পুলিশ। তবে ফোরামের একটি প্রতিনিধিদলকে লিখিত দাবিগুলো স্মারক আকারে অর্থমন্ত্রী বরাবর জমা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। পরে আন্দোলনকারীরা পল্টন থেকে গুলিস্তান অভিমুখের প্রধান সড়ক আটকে বসে পড়েন। দুপুর ১টার দিকে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার প্রতিনিধিদল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে সড়ক থেকে সবাইকে সরে যেতে বলা হয়।
ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মো. খুরশিদ আলমের পদত্যাগের দাবিতে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আন্দোলন করছে সচেতন গ্রাহক ফোরাম।
গত মঙ্গলবার ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে ফোরামের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র অধ্যাপক নুর উন-নবী জানান, গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় মতিঝিলের দিলকুশায় অবস্থিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি মিছিল নিয়ে সচিবালয় অভিমুখে যাত্রা করবেন তারা। এসময় তাদের লিখিত দাবিগুলো স্মারক আকারে অর্থমন্ত্রী বরাবর জমা দেওয়া হবে।
গত ১ জুন সকালে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন শুরু করে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। এ সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। এরপর থেকে টানা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আসছে সচেতন গ্রাহক ফোরাম।
ইসলামী ব্যাংক বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ এবিবির: ইসলামী ব্যাংক ঘিরে চলমান অস্থিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ উদ্বেগের কথা জানান এবিবির চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন।
মাসরুর আরেফিন বলেন, ইসলামী ব্যাংকের পরিস্থিতি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়, বরং পুরো ব্যাংকিং খাতের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যা নিয়ে ব্যাংকাররা খুবই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
গভর্নর ইসলামী ব্যাংকের চলমান পরিস্থিতিকে এখন শুধু ব্যাংকিং খাতের বিষয় হিসেবে নয়, বরং একটি রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন।
এবিবির চেয়ারম্যান বলেন, ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন গভর্নর। তিনি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোতে (সিআইবি) সঠিক তথ্য প্রদান নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।
বৈঠকে ব্যাংকিং খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে ক্রেডিট গ্রোথ বা ঋণের প্রবাহ বাড়াতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন প্যাকেজ নিয়ে আসছে। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য নতুন প্যাকেজ থেকে ঋণ পাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিফাইন্যান্স স্কিমের আওতায় এই অর্থ বিতরণ করা হবে।
