কম্পিউটার-ফোনের দাম কমবে
প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
প্রযুক্তি ডেস্ক

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স খাতের বিকাশে বড় ধরনের কর-সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। বাজেট সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, প্রযুক্তি পণ্যের ওপর প্রস্তাবিত কর ও ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা কার্যকর হলে দেশে উৎপাদিত কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনের দাম সাধারণ ভোক্তাদের হাতের নাগালে চলে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এসব কর-সুবিধা কার্যকর করা হলে স্থানীয় পর্যায়ে প্রযুক্তি পণ্যের উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাবে, যা সরাসরি বাজারে পণ্যের দাম কমাতে ভূমিকা রাখবে। এছাড়া এর মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা হ্রাস পাবে এবং স্থানীয় বাজারের সম্প্রসারণ ঘটবে।
প্রযুক্তি পণ্যের ওপর আরোপিত ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধার মেয়াদ আরও কয়েক বছর বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করছে সরকার। একই সঙ্গে কম্পিউটার যন্ত্রাংশ, প্রিন্টার, ফ্ল্যাশ মেমোরি ও মনিটর উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের ওপর অগ্রিম কর কমানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় ২২ ধরনের কাঁচামাল আমদানিতে করহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
শুধু তথ্যপ্রযুক্তি নয়, আসন্ন বাজেটে ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্য উৎপাদন খাত সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে যাচ্ছে। গৃহস্থালি পণ্যের ওপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মধ্যে টেলিভিশন, ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনার এবং ওয়াশিং মেশিনের মতো পণ্যগুলো অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি এসব পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক-কর ছাড়ের মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের ধারণা, এতে উৎপাদন খরচ কমবে, দেশীয় শিল্প আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে এবং ভোক্তারা তুলনামূলক কম দামে পণ্য কিনতে পারবেন।
বর্তমানে দেশে অন্তত ২২টি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন করছে। এ খাতে প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। সরকার ভবিষ্যতে এ শিল্পকে রফতানিমুখী খাত হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রস্তাবিত কর ও ভ্যাট সুবিধা কার্যকর হলে কম্পিউটার, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যের দাম কমার পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদনও নতুন গতি পাবে। আগামী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার নতুন বাজেট উপস্থাপন করবেন।
