সুসংবাদ প্রতিদিন

খাগড়াছড়ির পাহাড়ে আম চাষে নতুন সম্ভাবনা

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নুরুচ্ছাফা মানিক, খাগড়াছড়ি

পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়িতে চলতি মৌসুমে আম্রপালি, বারি-৪, কিউজাই, ব্রুনাই কিং ও মিয়াজাকির মতো দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের আমের আবাদ ও উৎপাদন আশাব্যঞ্জক। খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার কমলছড়ি ও ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন বাগানে ঘুরে দেখা গেছে, পাহাড়ি আবহাওয়া ও মাটির বৈশিষ্ট্য কাজে লাগিয়ে কয়েক বছর ধরে কৃষকরা উচ্চমূল্যের বিদেশি জাতের আম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। চলতি মৌসুমে পরিবেশ অনুকূলে না থাকা, খরার কারণে সেচ সংকট এবং জ্বালানি ঘাটতির মধ্যেও বাগান পরিচর্যায় কোনো কমতি রাখেননি তারা। ফলে ফলনও হয়েছে সন্তোষজনক।

কমলছড়ি ইউনিয়নের আমচাষি সুনীল চাকমা বলেন, এবার ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। সার, কীটনাশক, শ্রমিক ও সেচ খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হয়েছে।

একই ইউনিয়নের আরেক চাষি বলেন, খাগড়াছড়ির আমের স্বাদ ও গুণগত মান ভালো হলেও বাইরের বড় ক্রেতারা আগের মতো আসছেন না। পরিবহন খরচ, পথে পথে টোল এবং বিভিন্ন ঝামেলার কারণে অনেক ব্যবসায়ী আসতে চান না।

ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের কৃষক মো. জসিম উদ্দিন জানান, মিয়াজাকি ও ব্রুনাই কিংয়ের মতো দামি জাতের আম চাষ করেছি। বাগান করতে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছি। কিন্তু বিক্রির সময় স্থানীয় মধ্যস্বত্বভোগীরা কম দামে আম কিনে নিয়ে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছে। প্রকৃত লাভ তারা পাচ্ছে, কৃষক নয়।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, জেলায় কোনো আধুনিক হিমাগার না থাকায় দীর্ঘসময় আম সংরক্ষণের সুযোগ নেই। ফলে দ্রুত বিক্রি করতে বাধ্য হন তারা। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে মধ্যস্বত্বভোগীরা কম দামে আম কিনে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন পথে অতিরিক্ত টোল ও চাঁদার চাপও ব্যবসায়ীদের নিরুৎসাহিত করছে বলে দাবি তাদের। খাগড়াছড়ি জেলায় চলতি মৌসুমে ৪৪৫৬ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৫৫ হাজার মেট্টিক টন। কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাগড়াছড়ির পাহাড়ে উৎপাদিত আমের গুণগত মান ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিচিতি পেয়েছে। তবে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে এই সম্ভাবনাময় খাত কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারবে না। কৃষকদের দাবি, উৎপাদনের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।

খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাছির উদ্দিন বলেন, খাগড়াছড়িতে বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন উন্নত ও বিদেশি জাতের আমের চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া পুরোপুরি অনুকূলে না থাকলেও কৃষকদের পরিচর্যার কারণে ফলন সন্তোষজনক হয়েছে। বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানো গেলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হবেন।

তিনি আরও বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের জলবায়ু ও মাটি অনেক উচ্চমূল্যের ফল চাষের জন্য উপযোগী। তাই কৃষকদের কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত বলেন, খাগড়াছড়ির কৃষিপণ্য বিশেষ করে আমের বাজার সম্প্রসারণে জেলা প্রশাসন কাজ করছে। কৃষকরা যাতে ন্যায্য মূল্য পান এবং বাইরের ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।