ইসলামী ব্যাংকে সৎ ও যোগ্য পরিচালনা পর্ষদ চায় সচেতন গ্রাহক ফোরাম
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং গ্রাহকদের আস্থা অর্জনে সৎ, যোগ্য ও পেশাদার পরিচালনা পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন গ্রাহক ফোরাম। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে ৭ দফা দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর ফোরামের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র নুরুন্নবী মানিক সাংবাদিকদের সামনে এই দাবি জানান। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে জড়ো হন সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে আন্দোলনকারীরা। স্মারক প্রদান শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে নিজেদের দাবিগুলো জানান ফোরামের আহ্বায়ক নুরুন্নবী মানিক।
তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান খুরশেদ আলমের বিদায়ের পর প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হলেও তা এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে। দ্রুত একটি দক্ষ, সৎ ও পেশাদার পরিচালনা পরিষদ গঠন করতে হবে। এই পর্ষদে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যাদের আর্থিক স্বচ্ছতা ও যোগ্যতা রয়েছে এবং যারা কোনো ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত নন। ফোরামের আহ্বায়ক আরো বলেন, বিগত সময়ে এস আলম গ্রুপ বা অন্যান্য পক্ষ ইসলামী ব্যাংকের যে শেয়ারগুলো জোরপূর্বক বা অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছিল, তা প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। ব্যাংকটিকে দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত করে একটি স্বচ্ছ প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করা গেলেই গ্রাহকদের আস্থা পুনরায় ফিরে আসবে। তিনি বলেন, ব্যাংকের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং সংস্কার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে গ্রাহক ফোরাম তাদের আনন্দোলন অব্যাহত রাখবে। প্রশাসক নিয়োগের পর এখন পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ গঠনই মূল লক্ষ্য, যাতে ব্যাংকটি তার আগের গৌরব ও ঐতিহ্য ফিরে পায়। ইসলামী ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তারা চান ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ যেন কোনোভাবেই বিতর্কিত ব্যক্তিদের দ্বারা প্রভাবিত না হয়।
অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক আরও বলেন, আজকে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ব্যস্ত থাকায় তার পক্ষে পরিচালক ইসমাইল হোসেন এই স্মারকলিপি গ্রহণ করেছেন। তিনি এটি গভর্নরের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া আগামীকাল (বুধবার) আমাদের গভর্নরের সঙ্গে একটি সরাসরি সাক্ষাৎ ও বিস্তারিত আলোচনার কথা রয়েছে।
এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় মতিঝিলের দিলকুশায় অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে ফোরামের ৭ দফা দাবি সম্পর্কে ব্রিফিং করেন অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক।
সচেতন গ্রাহক ফোরামের দাবিগুলো হলো- ১. যোগ্য, অভিজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন পেশাদার বোর্ড অফ ডিরেক্টরস গঠন করতে হবে। ২. ২০১৭ সালে গায়ের জোরে কেড়ে নেওয়া মালিকানা ব্যাংকের প্রকৃত ও আদি মালিকদের কাছে অবিলম্বে ফিরিয়ে দিতে হবে।
৩. এস আলম গ্রুপসহ যারা ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট ও পাচার করেছে, তাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৪. ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বন্ধ করতে হবে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলমান উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার রোধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। ৫. বিশেষ টাস্কফোর্সের মাধ্যমে পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং এস আলমের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় করে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে। ৬. ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮(ক) ধারা সংশোধন করে চিহ্নিত লুটপাটকারী ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংকিং খাতের পরিচালনা পর্ষদে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করতে হবে। ৭. জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বিভ্রান্তিকর বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
