সুসংবাদ প্রতিদিন
দিনাজপুরে গ্রীষ্মকালীন ধুন্দল চাষে লাভবান কৃষক
প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
সিদ্দিক হোসেন, দিনাজপুর

দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলার গ্রামে গ্রামের ফসলের মাঠে এখন সবুজের সমারোহ। বিস্তীর্ণ মাঠের মধ্যে মধ্যে জমিতে ঝুলছে কৃষকের স্বপ্ন। মাচাজুড়ে ঝুলে থাকা সেই সবুজ ধুন্দল দেখেই এখন আনন্দের হাসি ফুটে উঠছে স্থানীয় চাষিদের মুখ। গ্রীস্মকালীনধুন্দুল চাষিরা চলতি মৌসুমে বেশ ভালো লাভের মুখ দেখছেন তারা। অল্প পুঁজি আর সঠিক পরিচর্যা যে কৃষিতে বড় সাফল্য এনে দিতে পারে, এই ধুন্দুল চাষ তারই এক অনন্য উদাহরণ। চলতি মৌসুমে দিনাজপুর জেলার দিনাজপুর, বীরগঞ্জ, কাহারোল, খানসামা, চিরিরবন্দর, পার্বতীপুর, বিরল, বোচাগঞ্জ, ফুলবাড়ি, হাকিমপুর, নবাবগঞ্জ, বিরামপুর ও ঘোড়াঘাট উপজেলায় চলতি গ্রীস্ম কালীল মৌসুমে প্রায ১২০ একর জমিতে ধুন্দল চাষ করা হয়েছে বলে এক সাক্ষাৎকারে দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আফজাল হোসেন জানিয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে কৃষকরা জানান অল্প খরচে বেশি লাভ ধন্দল চাষ করে। জমি চাষের শুরুতেই এমন স্বল্প খরচের ফসল কৃষকের জন্য বড় স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলন আসার পর থেকেই বাজারে এর ভালো চাহিদা থাকায় শুরু হয় নিয়মিত বিক্রি।
এরইমধ্যে জমি থেকে ধুন্দল তুলে পাইকারি বিক্রি করা হচ্ছে প্রতি কেজি ২৫ টাকা দরে। অর্থাৎ, চাষের প্রাথমিক খরচটি এর মধ্যেই উঠে এসেছে এবং লাভ আসতে শুরু করেছে। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি ধুন্দল সন্তোষজনক মূল্যে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তারা।
ধুন্দলের যে চমৎকার ফলন ও গাছের সতেজ অবস্থা দেখা যাচ্ছে, তাতে আগামী দিনগুলো নিয়ে তারা চরম আশাবাদী। জমিজুড়ে যেভাবে ফলন ছড়িয়ে আছে, তাতে আর কোনো বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লাভ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা। স্বল্প সময়ে এবং নামমাত্র খরচে ধুন্দল চাষের এই সাফল্য এখন আশেপাশের অনেক কৃষকের জন্যই অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং লাভজনক হওয়ায় স্থানীয় অনেক চাষিই এখন এই ধুন্দল খেত দেখতে আসছেন এবং আগামীতে এই সবজি চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। সঠিক সময়ে সরকারি কৃষি প্রণোদনা ও পরামর্শ বজায় থাকলে এই অঞ্চলে ধুন্দলসহ অন্যান্য ধুন্দল ও গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষ গ্রামীণ অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
