হবিগঞ্জের ট্রাইব্যুনালের বিচারককে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিলেন হাইকোর্ট

প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলার বিচারিক কার্যক্রমে বিলম্বের বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেওয়ায় হবিগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা মিনহাজ উম মুনিরাকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন হাইকোর্ট। শিশু ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার বিচার সাড়ে ৪ বছরেরও বেশি সময়ে শেষ না হওয়ায় এই বিচারককে তলব করা হয়েছিল।

গত ৯ জুনের তলব আদেশ পালনে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশ এবং বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চে হাজির হয়ে বিচারের বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করেন বিচারক সৈয়দা মিনহাজ উম মুনিরা।

তিনি হাইকোর্টকে জানান যে, তিনি গত বছরের সেপ্টেম্বরে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে যোগ দেন এবং তিনি এই শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ছয়জন সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন।

তিনি বলেন, তার নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেওয়ার জন্য অন্য সাক্ষীদের তলব করা হয়েছিল। কিন্তু তাদের অনেকেই ট্রাইব্যুনালে হাজির হননি। এ কারণে মামলার বিচারিক কার্যক্রমে বিলম্ব হচ্ছে। হবিগঞ্জের বিচারক আরও বলেন, তার ট্রাইব্যুনাল বিচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং খুব শিগগিরই মামলার কার্যক্রম হবে।

হাইকোর্ট তখন বিচারক সৈয়দা মিনহাজ উম মুনিরাকে আদালতে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেন। পাশাপাশি ধর্ষণ ও হত্যার ওই মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করে আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে এই বিষয়ে আদালতকে হালনাগাদ তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মহসিন কবির বিষয়টি জানান। ওই মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ করতে না পারায় গত ৯ জুন হাইকোর্ট বেঞ্চ বিচারক সৈয়দা মিনহাজ উম মুনিরাকে আদালতে হাজির হতে বলেন। মামলার কারাবন্দি আসামি গোলাম হোসেনের দায়ের করা জামিন আবেদনের শুনানি চলাকালে বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন।

মামলার নথি পরীক্ষা করে হাইকোর্টের বিচারকরা লক্ষ্য করেন, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে দায়ের করা ধর্ষণ ও হত্যার ওই মামলার বিচারকাজ সাড়ে ৪ বছরেও শেষ হয়নি। আদালত তখন বিলম্বের বিষয়ে বিচারক সৈয়দা মিনহাজ উম মুনিরার ব্যাখ্যা শোনার জন্য তাকে তলব করেন এবং জামিন আবেদনের পরবর্তী শুনানির জন্য ২৩ জুন দিন ধার্য করেন।

ডিএজি মহসিন কবির জানান, ২০২১ সালের ২৬ ও ২৭ ডিসেম্বরের মধ্যে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বাঘাউরা গ্রামের ১৭ বছর বয়সি কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ২৮ ডিসেম্বর মামলাটি দায়ের হয়।

খলিল উদ্দিন ও মো. গোলাম হোসেনের নামে মামলাটি দায়ের করেন ওই কিশোরীর বাবা। তারা বর্তমানে কারাগারে আছেন। সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে অভিযোগ গঠনের ১৮০ দিনের মধ্যে মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা বলে জানান ডিএজি মহসিন।

আসামি গোলাম হোসেনের পক্ষে উপস্থিত অ্যাডভোকেট মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, হাইকোর্ট আগামী ১০ আগস্ট তার মক্কেলের জামিন আবেদনের ওপর পরবর্তী শুনানি গ্রহণ করবেন।