সুসংবাদ প্রতিদিন

চান্দিনায় মিষ্টি কুমড়া চাষে লাভবান কৃষক

প্রকাশ : ২৮ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ওসমান গনি, চান্দিনা (কুমিল্লা)

মাঠের পর মাঠ সবুজ পাতার সমারোহ, আর সেই পাতার আড়ালে লুকিয়ে আছে সোনালী ও গাঢ় সবুজ রঙের শত শত মিষ্টি কুমড়া। কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মেহার গ্রামের ফসলের মাঠে এখন এমন নজরকাড়া দৃশ্যের দেখা মিলছে। চলতি মৌসুমে মেহার গ্রামের প্রান্তিক চাষী স্বদেশ তার মাত্র ৬ শতাংশ জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করে এলাকায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নামমাত্র খরচে আধুনিক পদ্ধতি আর কঠোর পরিশ্রমকে পুঁজি করে তিনি এখন বাম্পার ফলনের হাসিতে ভাসছেন। তার এই অভাবনীয় সাফল্য স্থানীয় অন্য চাষীদের মধ্যেও নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।

কৃষক স্বদেশ জানান, বড় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ না থাকলেও স্রেফ অভিজ্ঞতা আর সঠিক পরিচর্যাকে কাজে লাগিয়ে তিনি এই চাষ শুরু করেছিলেন। মাত্র ৬ শতাংশের এই এক চিলতে জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষ করতে তার বীজ, সার, কীটনাশক এবং সেচ বাবদ সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে মাত্র দুই থেকে তিন হাজার টাকা। কুমড়া চাষের বড় সুবিধা হলো, এতে অন্যান্য ফসলের মতো বাড়তি শ্রম বা অতিরিক্ত নামী-দামী রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয় না। সঠিক সময়ে সামান্য জৈব সার আর নিয়মিত একটু দেখভাল করলেই গাছ দ্রুত বাড়তে থাকে। স্বদেশের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। স্বল্প পুঁজি আর সামান্য শ্রমের বিপরীতে তার ক্ষেতে এসেছে আশাতীত সাফল্য। গাছের গোড়া থেকে শুরু করে ডালপালা জুড়ে এখন শুধু মিষ্টি কুমড়ার মেলা। বর্তমানে বাজারে পুষ্টিকর এই সবজির চাহিদা তুঙ্গে। মেহার গ্রামের এই খেতে উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়াগুলোর আকার ও মান বেশ চমৎকার হওয়ায় পাইকার ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে এর ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। বর্তমান বাজারে আকারভেদে প্রতি পিস মিষ্টি কুমড়া বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আনন্দঘন কণ্ঠে স্বদেশ বলেন, শুরুর দিকে ভাবিনি এত কম খরচে এত ভালো ফলন পাব। মাত্র দুই-তিন হাজার টাকা খাটিয়ে আজ যে ফলন পেয়েছি, তাতে খরচ উঠে আমার লাভ এখন দ্বিগুণেরও বেশি। বাজারে দামও বেশ ভালো পাওয়া যাচ্ছে। কম খরচে এত ভালো লাভ দেখে মনের ভেতর অন্যরকম একটা তৃপ্তি কাজ করছে। তিনি আরও জানান, এই স্বল্পমেয়াদী ফসলটি তুলে ফেলার পর তিনি এই একই জমিতে অন্য আরেকটি লাভজনক ফসল চাষের পরিকল্পনা করছেন। স্থানীয় কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মিষ্টি কুমড়া একটি অত্যন্ত লাভজনক এবং পুষ্টিকর সবজি। অল্প মাটিতে এবং কম খরচে এর চেয়ে লাভজনক ফসল খুব কমই আছে। স্বদেশের মতো এভাবে যদি প্রত্যেকে তাদের পতিত বা অল্প পরিমাণ জমিতেও আধুনিক উপায়ে মিষ্টি কুমড়ার মতো সবজি চাষে এগিয়ে আসেন, তবে তা যেমন গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র বদলে দেবে, ঠিক তেমনি দেশের পুষ্টির চাহিদাও মেটাবে। মেহার গ্রামের স্বদেশের এই নীরব কৃষি বিপ্লব প্রমাণ করে দিয়েছে যে, সদিচ্ছা আর সঠিক সময়ে সঠিক উদ্যোগ নিলে সামান্য ৬ শতাংশ জায়গা থেকেও দারুণ কিছু করে দেখানো সম্ভব। স্বদেশের এই ফসলের খেত এখন মেহার গ্রামের অন্য চাষীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম।