চেম্বারে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউটরের

পাননি সিসিটিভি ফুটেজ

প্রকাশ : ২৮ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কাঁটাবনে আল বারাকা টাওয়ারের ১২ তলায় অগ্নিকাণ্ডে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমানের ব্যক্তিগত ল চেম্বারের কাগজপত্র পুড়ে গেছে বলে তিনি জানিয়েছেন। নিহত হয়েছেন চেম্বারে থাকা দুই কর্মী। অগ্নিকাণ্ডের সময়কার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমান। তার অভিযোগ, কোনো কারণে তার চেম্বারে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত শুক্রবার দিবাগত রাতে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমান গতকাল শনিবার দুপুরে বলেন, ১৪ তলা ভবনটির ১২ তলায় চারটি অ্যাপার্টমেন্টের তিনটিতে চেম্বার এবং একটিতে বাসা। এর মধ্যে ডি-১-এ তার চেম্বার। সেখানে লাগা আগুনে তার ৮০ লাখ টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমান আরও বলেন, চেম্বারের দাপ্তরিক সহকারী মো. আবদুস সালাম গতকাল রাত ১২টা ৪৭ মিনিটে ফোন করে আগুন লাগার খবর জানান। কিন্তু ১২টা ২৭ মিনিটের পর থেকে তার চেম্বারের আউটডোরে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার রেকর্ড নেই। ১২টা ২৭ মিনিট থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ‘নো রেকর্ড’ দেখাচ্ছে।

হয় সিসিটিভি ক্যামেরা পুড়ে গেছে, নয়তো আগুন দেওয়ার আগে কেউ সিসিটিভি ক্যামেরার মেমোরি কার্ড সরিয়ে ফেলেছে বলে অভিযোগ করেন প্রসিকিউটর।

বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট বা কোনো দুর্ঘটনা থেকে আগুন লাগেনি বলে মনে করেন প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমান। চেম্বারে আগুন লাগার যৌক্তিক কারণ নেই বলেও জানান প্রসিকিউটর। তার চেম্বারে রান্না হয় না। কর্মচারীরা ধূমপানও করেন না। কয়েলও জ্বালানো হয় না। রাতে এসিও চলত না । আগুনের সূত্রপাত প্রধান দরজা থেকে। প্রধান দরজায় আগুন ধরার কারণে কর্মচারীরা বের হতে পারেননি। দুজনই মারা গেছেন। মারা যাওয়া দুজনের মধ্যে একজন হলেন প্রসিকিউটরের চেম্বারের দাপ্তরিক সহকারী আবদুস সালাম। আরেকজন আরেক চেম্বারের দাপ্তরিক সহকারী। তারা দুজন একসঙ্গে তার চেম্বারে থাকতেন।

আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, আবদুস সালাম তাকে ফোন দিয়ে বলেন, ‘স্যার, আমাকে বাঁচান। চেম্বারে আগুন ধরছে, আমি তো বের হতে পারতেছি না।’ এ কথাই বলতে পেরেছেন আবদুস সালাম। তারপর আর ফোন ধরেননি।

সঙ্গে সঙ্গে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেন বলে জানান আবদুল্লাহ আল নোমান। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজে ফায়ার সার্ভিস দেরি করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রাজধানীর কাঁটাবনে আবাসিক ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে, দুজনের মৃত্যু

প্রসিকিউটরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব হোসেন বলেন, আগুনের সূত্রপাতের কারণ এখনই বলা যাচ্ছে না। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকেও এখনও কিছু বলা হয়নি। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হবে। এ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর মতামতও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

আগুন নেভাতে দেরি করার অভিযোগের বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান শিকদার বলেন, আইন অনুযায়ী বহুতল ভবনের নিজস্ব অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকতে হয়। কিন্তু কাঁটাবনের ওই ভবনে নিজস্ব কোনো ব্যবস্থা ছিল না। ফায়ার সার্ভিসের নিজস্ব পাইপ দিয়ে অনেক নিচ থেকে পানি নিয়ে ১৩ তলার ওপরে আগুন নেভানোর কাজ করতে হয়েছে। এতে সময় বেশি লেগেছে।