পদ্মা রেলসেতুর পিলারের নিচের মাটি কাটায় ‘ঝুঁকি নেই’, পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী রবিউল
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেক

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পদ্মা রেল-সংযোগ সেতুর পিলারের নিচের মাটি কাটার বিষয়টি প্রকল্পের অংশ জানিয়ে সড়ক, সেতু ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, মাটি কাটার কোনো নেতিবাচক প্রভাব নেই, বরং ইতিবাচক প্রভাব আছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেল-সংযোগ সেতুর ভায়াডাক্টের নিচে চলমান ডিমোবিলাইজেশন কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে এ কথা বলেন মন্ত্রী। গত জুনে আলীগঞ্জে সেতুর পিলারের নিচে অন্তত ১৫ ফুট গভীর করে মাটি কেটে নেওয়ার খবর পাওয়া যায়। এতে পিলারের অংশের মাটি নিচু হয়ে যায় এবং এসব জায়গায় গর্ত তৈরি হওয়ায় সেতুর পিলার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। ওই স্থান পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী রবিউল আলম বলেন, ‘পদ্মা রেলসেতুর ভায়াডাক্টের নিচে মাটি অপসারণের ফলে রেললাইন বা কাঠামোর কোনো ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি হবে না। বরং প্রকল্পের নিরাপত্তা, পরিবেশের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার স্বার্থেই এ কাজ করা হচ্ছে।’ মন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি গণমাধ্যমে এমনভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে যেন অপরিকল্পিতভাবে ভায়াডাক্টের নিচ থেকে মাটি কাটা হচ্ছে এবং এতে রেললাইনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। প্রকৃতপক্ষে এমন আশঙ্কার কোনো ভিত্তি নেই। যে মাটি অপসারণ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ প্রকল্পের প্রয়োজনেই এবং প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভায়াডাক্ট নির্মাণের সময় এলাকাটি জলাভূমি হওয়ায় ভারী যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের সুবিধার্থে অস্থায়ীভাবে মাটি ভরাট করা হয়েছিল। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই এ ধরনের ভায়াডাক্ট নির্মাণে একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। প্রকল্প শেষ হলে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সেই অস্থায়ী ভরাট অপসারণ করে জায়গাটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে সেই কাজই চলছে।
মন্ত্রী রবিউল বলেন, ‘এরইমধ্যে প্রায় ১৪ দশমিক ৪ কিলোমিটার এলাকার অস্থায়ী ভরাট অংশের মাটি অপসারণ করা হয়েছে। এখন মাত্র প্রায় ২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার অংশের কাজ বাকি রয়েছে। ঠিক এ সময়ই বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, যা জনমনে অযথা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।’
‘গড়ে প্রায় সাড়ে ৩ ফুট মাটি অপসারণ করা হবে। এরপর ভূমি স্বাভাবিক স্তরে ফিরে যাবে। মূল মাটির স্তরের প্রায় ৭-৮ ফুট নিচে পাইল ক্যাপ, যার পুরুত্ব প্রায় ৬ ফুট। এর নিচে প্রায় ২০০ ফুট গভীর পাইল। অর্থাৎ পুরো কাঠামো প্রকৌশলগতভাবে অত্যন্ত নিরাপদ এবং সবকিছু বিবেচনায় রেখেই নির্মাণ করা হয়েছে। তাই মাটি অপসারণের সঙ্গে ভায়াডাক্টের নিরাপত্তার কোনো নেতিবাচক সম্পর্ক নেই, বরং ইতিবাচক সম্পর্ক রয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, মাটি অপসারণের ফলে এলাকার প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ, জলাভূমি ও পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য পুনঃস্থাপন করা হবে। এছাড়া ভবিষ্যতে রেলওয়ের প্রয়োজনে এই জমি সম্প্রসারণ বা নতুন অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
স্থানীয়দের উদ্বেগকে যৌক্তিক উল্লেখ করে মন্ত্রী রবিউল বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদারকি করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। সেনাবাহিনী ও রেলওয়ে দেশের স্বার্থেই কাজ করছে। ভায়াডাক্টের নিরাপত্তা নিয়ে তারা সাধারণ মানুষের মতোই সচেতন ও দায়িত্বশীল।’
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, রেল সচিব ফাহিমুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সায়েম প্রমুখ।
