মাছ-মুরগির দামে ঊর্ধ্বগতি সবজিতে কিছুটা রক্ষা

প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বাজারে আবারও বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়। একইসঙ্গে অধিকাংশ মাছের দামও বেশি থাকায় স্বস্তি পাচ্ছেন না ক্রেতারা। তবে সবজির বাজার অপরিবর্তিত থাকায় রক্ষা হয়েছে ভোক্তাদের। প্রায় সব ধরনের সবজিই মিলছে আগের দামেই। এছাড়া ডিম ও গরুর মাংসের বাজারেও তেমন পরিবর্তন হয়নি। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেড়েছে। নারিন্দা বাজারের মুরগি বিক্রেতা মাহবুব মিয়া বলেন, ‘পাইকারি আড়তগুলোতেই মুরগির দাম বেশি। প্রচণ্ড গরমের কারণে অনেক খামারে মুরগি মারা গেছে, যার প্রভাব পড়েছে সরবরাহে। আড়তে দাম কমলে আমরাও কম দামে বিক্রি করতে পারি।’

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই মাছ আকারভেদে প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, কাতল ২৩০ থেকে ৫০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, টেংরা ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং টাকি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া প্রতিকেজি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে আগের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে চিংড়ি। আকার ও জাতভেদে প্রতিকেজি চিংড়ির দাম ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা। কিছু বড় আকারের চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে।

অন্যদিকে মুরগির বাজারে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ টাকা কেজি দরে। ডজনপ্রতি ডিমের দাম রয়েছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা।

সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে দামে তেমন কোনও পরিবর্তন আসেনি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সবজি। বাজারে এখন কিছু সবজির দাম খানিকটা বেশি, আবার কিছু সবজির দাম বেশ সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। কম দামের তালিকায় রয়েছে পেঁপে, ছোট পটোল, ঢ্যাঁড়শ, চালকুমড়া, লাউসহ বেশ কিছু সবজি। এসব পণ্য খুচরা বাজারে প্রতিকেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে তুলনামূলক বেশি দামের সবজির মধ্যে বেগুন প্রতি কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, ঝিঙা ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, ধুন্দল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, লতি মানভেদে ৭০ থেকে ৯০ টাকা এবং করলা ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং গাজর ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দাম প্রতিকেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকা। পেঁয়াজের দামও স্থিতিশীল রয়েছে। মানভেদে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। একইভাবে স্থিতিশীল রয়েছে রসুন ও আদার দাম।

নারিন্দা কাঁচাবাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী সোহাগ মিয়া বলেন, ‘সবজির দাম এখন কিছুটা নাগালের মধ্যে আছে, এটা ভালো দিক। কিন্তু মুরগির দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে। খুব কম মাছই হাতের নাগালে। বাজারে নিয়মিত তদারকি না থাকলে সাধারণ মানুষের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।’

বাজারে মাছ কিনতে আসা পুরান ঢাকার বাসিন্দা এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘এখন ২০০ টাকা দিয়েও কোনও মাছ কেনা যায় না। পাঙাশ মাছের কেজিও ২০০ টাকার ওপরে। চাষের মাছ কিনতেও হিমশিম খেতে হয়। এর মধ্যে আবার শুনলাম মুরগির দামও বেড়েছে।’

ডিম বিক্রেতা আজাদ জানান, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। বর্তমানে প্রতি ডজন সাদা ব্রয়লার ডিম ১০০ টাকা এবং ব্রাউন ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ এক সপ্তাহ আগেও একই ডজন ডিমের দাম ছিল ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা।’

বাজার করতে আসা গৃহিণী তাহেরা বানু বলেন, ‘মাছের দাম দিন দিন বাড়ছেই। তেলাপিয়া কিনতে হচ্ছে ২৩০ টাকা কেজি দরে, আর রুই মাছ ৩০০ টাকা কেজি। এভাবে চললে সাধারণ মানুষের জন্য মাছ কেনা কঠিন হয়ে যাবে। একটু ভালো খেতে গেলেও আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দাম গুনতে হচ্ছে।’

মাছের দাম বাড়ছেই : রায়সাহেব বাজারের মাছ বিক্রেতা নুরনবী বলেন, ‘মাছের দাম মূলত সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। বর্তমানে চিংড়ির সরবরাহ কম থাকায় এর দাম বেশি। অন্য মাছের দামে বড় কোনও পরিবর্তন হয়নি। বর্ষাকালে নদীর মাছের সরবরাহ বাড়লে দামও কিছুটা কমে আসে।’ মুরগি কিনতে আসা রাতুল বলেন, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতি কেজিতে প্রায় ৩০ টাকা বেশি। হিসাব করে বাজার করতেও হিমশিম খাচ্ছি। প্রথমে তো মুরগির দাম শুনে মাথায় হাত দিয়েছি। এক সপ্তাহে এত দাম বেড়েছে। কী আর করবো, বাসায় ছেলে-মেয়ে মুরগি খেতে চেয়েছে। এভাবে আর কতদিন চলবে? আজ এক দাম, পরের দিন বাজারে এলে আরেক দাম। এভাবে আসলে চলে না। সরকারের উচিত বাজার তদারকি করা।’

মুরগি বিক্রেতা মো. সোহান মিয়া বলেন, ‘ব্রয়লার মুরগির দাম প্রতিদিনই সরবরাহের সঙ্গে ওঠানামা করে। আজ সরবরাহ কম থাকায় কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দামও কমে যাবে।’