সুসংবাদ প্রতিদিন

হাঁড়িভাঙা আমে ভাগ্য ফিরছে কৃষকের

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সিদ্দিক হোসেন, দিনাজপুর

দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সুস্বাদু ও আঁশহীন হাঁড়িভাঙা আম। বাণিজ্যিকভাবে এই আমের চাষ এ অঞ্চলের অনেক কৃষকের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। দিনাজপুরের এখন অন্যতম একটি ‘ব্র্যান্ড’-এ পরিণত হয়েছে হাঁড়িভাঙা আম। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমের ফলন ও দাম দুটোই ভালো পাচ্ছেন চাষিরা। দিনাজপুর জেলায় গত ১৫ জুন থেকে পরিপক্ব হাঁড়িভাঙা আম বাজারজাত শুরু করেছেন বাগানমালিক ও ব্যবসায়ীরা।

দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার দুই ধারে সারি সারি হাঁড়িভাঙা আমের বাগান। গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় আম। চাষিরা জানান, অতিরিক্ত গরমের কারণে এ বছর নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই আম পাকতে শুরু করেছে। কৃষি বিভাগ ও চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাঁড়িভাঙা আম সাধারণত জুনের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত পাওয়া যায়। দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ি, বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর, বীরগঞ্জ, কাহারোল, ঘোড়াঘাট ও পার্বতীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় এই আম চাষের ব্যাপক বিস্তার ঘটছে। আম চাষিরা বলেন ধান ও আলুর চাষ যা লাভ হতো তার চেয়ে বেশি লাভ হচ্ছে আম চাষ করে।

একইভাবে ধান চাষ ছেড়ে আম চাষে ঝুঁকছেন অনেক কৃষক। বুজরুক সমশেরনগর গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন ও আলাদিপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর এলাকার আজাদ আলী জানান, ধান চাষের চেয়ে আম চাষে লাভের পরিমাণ আকাশ-পাতাল তফাত। ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় তারা প্রতিবছরই লাখ টাকার ওপর মুনাফা করছেন।

উপজেলার দামার মোড়, বেজাই মোড়, বারাইহাট, দিনাজপুরের বিভিন্ন বাজারে এখন হাঁড়িভাঙা আমের জমজমাট বেচাকেনা চলছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা আম কিনতে এসব বাজারে ভিড় করছেন। মৌসুমের এই সময়ে প্রতিদিন অন্তত ২০০ থেকে ৩০০ ট্রাক আম দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে। দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আফজাল হোসেন বলেন, জেলায় প্রতিবছরই হাঁড়িভাঙা আমের চাষ বাড়ছে। লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকেরা ধানি জমিতেও আমের বাগান করছেন। বর্তমানে জেলায় ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙাসহ বিভিন্ন জাতের আম গাছ রয়েছে। গত বছর প্রায় ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকার আম বিক্রি হয়েছিল; এবার তা ১৪০ থেকে ১৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।