হাওরের জন্য আগাম জাত উদ্ভাবনের চেষ্টা চলছে

বললেন কৃষিমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

হাওর অঞ্চলের জন্য আগাম জাতের ধান উদ্ভাবনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

তিনি বলেছেন, ‘আমাদের দেশের তুলনায় মানুষের সংখ্যা বিশেষ করে ধান উৎপাদনের প্রশ্নে, আমাদের চাহিদার তুলনায় জমির সংখ্যা এতটুকু নাই। যদিও সুখের বিষয় এরইমধ্যে আমাদের ধানের উৎপাদন ডে বাই ডে বাড়ছে। আমাদের ধানের উৎপাদন কম থাকার পিছনে আরও কিছু কারণ আছে। দেশে বেশকিছু হাওর অঞ্চল আছে। যে হাওরগুলোকে ধান উৎপাদনের হাব বলা হয়। প্রচুর ধান উৎপাদন হয়। কিন্তু প্রাকৃতিকভাবে ওই ধান যখন পাকার সময় আসে, তখন হঠাৎ করে বৃষ্টি বাদল বেশি যখন হয়; তখন হাওর এলাকা সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে মৎস্য অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

আমিন উর রশিদ বলেন, ‘এবারও আমরা দেখেছি। তবে আমরা চেষ্টা করেছি। হাওরগুলোতে এরইমধ্যে ১০ দিন বয়স কমিয়ে ধানের জাত উদ্ভাবনে কাজ করে যাচ্ছি। বৃষ্টির ৮-১০ দিন আগে যদি হারভেস্টটা করে ফেলতে পারি, তাহলে আমাদের জন্য অনেক ভালো হয়। এবছরও যে বন্যা হয়েছে খুব বেশি যে নষ্ট হতে পারছে, তা না। কিন্তু সবদিক থেকে পানি এসে যায় বলে নিচের জমিগুলো রক্ষা করা অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়। চেষ্টা করছি, এমনকি যদি ধান ডুবেও যায় এক-দুদিন পরে কাটলেও সমস্যা হয় না ওই সিস্টেমে যদি ধান কাটা হয়। বিশ্বব্যাপী এধরনের হারভেস্টিং মেশিন সোর্সিং করছি। যদি খুঁজে পেয়ে যাই। পানিতে ডুবে থাকা ধান কাটা যায় কি না। ১০দিন আগে যদি ধান কাটতে পারলে এই সমস্যার সমাধান হবে এ ধরনের জাত উদ্ভাবনের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, এবার ইলিশের প্রজনন মৌসুমে জাটকা ইলিশ যাতে না ধরতে পারে সেজন্য মৎস্যজীবীদের তালিকা করে প্রচুর সহযোগিতা করেছি। দীর্ঘ সময়ের জন্য মৎস্যজীবীরা যাতে পোনা মাছ না ধরে, এজন্য দীর্ঘমেয়াদি কাজ করছি। এই জনগোষ্ঠীর অর্থ উপার্জনের জন্য কিছু ব্যবস্থা করা যায় কি না সেই ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছি। আমরা প্রকল্প নিচ্ছি। যাতে করে তারা মৎসের পাশাপাশি অন্য কৃষির সঙ্গেও জড়িত হতে পারে। যেখান থেকে তারা সারা বছর ভাল উপার্জন করতে পারবে। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, তাদের যদি অর্থনৈতিক ভাবে সাবলম্বী করতে পারি। এবং এই জনগোষ্ঠীর একটা বিরাট অংশ দাদনদারের উপর নির্ভরশীল হয়। এটাও একটা প্রধান সমস্যা। এই দাদনদারদের হাত থেকে যদি তাদেরকে রক্ষা করতে পারি, তাহলে আশা করি জাটকা নিধন বন্ধ হবে। তাহলে মাছের উৎপাদন বাড়বে। এই সরকারের টার্গেট ইলিশ শুধু লোকাল মার্কেটে এবেইলএবল করা নয়। আন্তর্জাতিক বাজারেও ইলিশের চাহিদা বেড়েছে। অন্যান্য জাতির লোকেরাও ইলিশ নিতে চাচ্ছে। ইলিশ সত্যিকার অর্থে টুনার পরের অবস্থানে এসে যাবে। যদি আমরা এটাকে এনাফ প্রডাকশন করে বিশ্বব্যাপী মার্কেটিং করতে পারি।

দেশের নদীগুলোতে নাব্য সমস্যা আছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এটার ব্যাপারে আমরা দুয়েকটা প্রকল্প হাতে নিয়েছি। আগামী দিনে আমরা আরো বড় প্রজেক্ট নিব। কারণ নদীতে অনেক চর জেগেছে। তারপর পাহারা দেয়ার জন্য কোস্টগার্ডের যে পরিমাণ ফোর্স আছে ওটাকেও বাড়ানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আশাকরি কোস্টগার্ডেরও জনবল বাড়ানো হবে।’

কৃষি পণ্য সংরক্ষণে সারাদেশে মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের পরিকল্পনা তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘একটি-দুটি ইউনিয়ন মিলে একটা করে কোল্ড স্টোরেজ করা হচ্ছে। তাহলে কৃষকের পরিবহন খরচ বেঁচে গেল। কৃষকরা যখন একটা সিস্টেমে পড়ে যাবে, চাহিদার সাথে মিল রেখে যখন উৎপাদন চলবে মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা অটোমেটিক্যালি ড্রপ করবে।’

কৃষকের কাছ থেকে সরকারি ভাবে ধান কেনার ক্ষেত্রে একই দিন একটি এলাকা বা পুরো ইউনিয়নের ধান একসঙ্গে কেনা যায় কি না সেই চিন্তাও করা হচ্ছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী।