নবায়নযোগ্য থেকেই লক্ষ্য ২০ শতাংশ, ভরসা ছাদের সৌরবিদ্যুৎ
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

করছাড় দিয়ে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি গ্রিড আধুনিকায়ন ও চাহিদা ব্যবস্থাপনাকে একসঙ্গে আনার মাধ্যমে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে কৌশলপত্র করছে সরকার।
পাঁচ বছরের এ খসড়া কৌশলপত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে লক্ষ্য বড় হলেও এ খাত থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনও প্রান্তিক পর্যায়ে।
খসড়া এ কৌশলপত্রে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সক্ষমতা বাড়িয়ে ১৪ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। বর্তমানে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ এক হাজার মেগাওয়াটের নিচে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) দৈনিক উৎপাদন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪ জুলাই দিনের বেলা মোট উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে ১৫ হাজার ২১৪ মেগাওয়াট সরবরাহের মধ্যে সৌর, জল ও বায়ু মিলিয়ে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ছিল প্রায় ৮৫৩ মেগাওয়াট। তবে সন্ধ্যার পিক আওয়ারে মোট সরবরাহ ১৬ হাজার ৭৭ মেগাওয়াটের মধ্যে সৌর উৎপাদন প্রায় শূন্যে নেমে যাওয়ায় নবায়নযোগ্য উৎসের অবদান ছিল প্রায় ১২৮ মেগাওয়াট।
প্রস্তাবিত কৌশলপত্রে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চলমান ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রকল্পের ভবন, গ্যারেজ, সেতু ও অন্যান্য উপযোগী অবকাঠামোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার কথাও বলা হয়েছে।
অপরদিকে কৃষিজমির ব্যবহার সীমিত রাখা, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের প্রভাব বিবেচনা করা এবং মানুষকে বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে খসড়ায়। একই সঙ্গে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, ভাসমান সোলার, সৌর সেচ পাম্প ও ইভি চার্জিংকেও কৌশলপত্রে রাখা হয়েছে। খসড়া কৌশলপত্র মতামতের জন্য বিদ্যুৎবিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট কমিটির সভায় খসড়াটি চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে। তবে নবায়নযোগ্য খাত থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিশাল এ লক্ষ্যমাত্রার বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন এক বিশ্লেষক। তার মতে, এটির সফলতা নির্ভর করবে সরকার সামগ্রিকভাবে কতটা ভালোভাবে পরিকল্পনা, মনিটরিং এবং প্রয়োজনমতো সংশোধন করতে পারে-সেটির ওপর। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগের সদস্য আশরাফুল আলম বলেন, সরকার এখন যে কৌশলপত্র তৈরি করছে, তা চূড়ান্ত হওয়ার পর এর ভিত্তিতে বাস্তবায়ন পরিকল্পনা করা হবে।
স্রেডার গত ২ জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির মোট স্থাপিত সক্ষমতা ১ হাজার ৮০৬ দশমিক ৮ মেগাওয়াট; যা বিদ্যুৎ খাতের মোট স্থাপিত সক্ষমতা ৩২ হাজার ৪৫৭ মেগাওয়াটের ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ। বিদ্যুৎ বিভাগের খসড়া কৌশলপত্রে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে আরও প্রায় ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সক্ষমতা যোগ করতে হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ভরসা রাখা হয়েছে ছাদের বিদ্যুৎকে (রুফটপ সোলার)। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট, ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট এবং বায়ু, বর্জ্য, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ, কৃষি-সৌরবিদ্যুৎসহ অন্যান্য উৎস থেকে ৫০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। খসড়াতে আগের ব্যর্থতার কারণও স্বীকার করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন সময়ে নীতিমালা, সোলার প্রোগ্রাম, মহাপরিকল্পনা ও রুফটপ সোলার কর্মসূচি নিয়েছে; কিন্তু বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, সহায়ক নীতি, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি।
স্রেডার রিনিউয়েবল এনার্জি ইন্সটলড ক্যাপাসিটি তথ্য অনুযায়ী, নবায়নযোগ্য জ্বালানির বর্তমান সক্ষমতার মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ সৌরবিদ্যুৎ। এ খাতের সক্ষমতা ১ হাজার ৫১৩ দশমিক ৭১ মেগাওয়াট। অন্য উৎসের মধ্যে জলবিদ্যুতের স্থাপিত উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট; বায়ু বিদ্যুতে ৬২ মেগাওয়াট, বায়োগ্যাস থেকে বিদ্যুৎ শূন্য দশমিক ৬৯ মেগাওয়াট এবং বায়োমাস থেকে বিদ্যুৎ শূন্য দশমিক ৪ মেগাওয়াট।
মোট নবায়নযোগ্য সক্ষমতার মধ্যে অনগ্রিডে ১ হাজার ৪২৮ দশমিক ২৮ মেগাওয়াট এবং অফগ্রিডে ৩৭৮ দশমিক ৫২ মেগাওয়াট। অর্থাৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানির বর্তমান সক্ষমতার প্রায় ৮৪ শতাংশই সৌরবিদ্যুৎনির্ভর। বর্তমান ব্যবস্থায় গ্যাস, কয়লা ও তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোই (মোট সক্ষমতার প্রায় ৭৫ শতাংশ) বিদ্যুৎ খাতের মূল ভরসা। এ হিসাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখনও বিদ্যুৎ খাতের প্রান্তিক অংশ। কৌশলপত্রে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের লক্ষ্য অর্জনে নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি গ্রিড সংযোগ, বিনিয়োগ, ব্যাটারি স্টোরেজ, নেট মিটারিং, ট্যারিফ ও প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি একসঙ্গে বদলাতে হবে। স্রেডার নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগের সদস্য আশরাফুল আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, খসড়ায় কোন মডালিটিতে কাজ হবে, অর্থায়ন কীভাবে হবে, কার কী ভূমিকা থাকবে, সেসবের মূল কাঠামো দেওয়া আছে। ‘এরপর প্রকল্প পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়নের জন্য আরও মাইক্রো লেভেলে ওয়ার্ক প্ল্যান হবে।’
ছাদের সৌরবিদ্যুৎ থেকে সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে তিনি বলেন, ‘রুফটপ বলতে সব রুফটপ। সরকারি-বেসরকারি সবগুলোই এর মধ্যে আসবে।’ তবে শল্প কারখানার ছাদকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিল্প প্রতিষ্ঠানের ছাদ ব্যবহার করে বড় পরিসরে ‘রুফটপ সোলার’ করা সম্ভব। কৌশলপত্র চূড়ান্ত হলে এ বিষয়ে আলাদা পরিকল্পনা তৈরি হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কম থাকার বিষয়ে আশরাফুল আলম বলেন, খরচ কমাতে সরকার ইতোমধ্যে করছাড় দিয়েছে।
আগে সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জামের ওপর বেশি কর থাকলেও এখন আমদানি পর্যায়ে তা ২ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা বলেন তিনি। এটা হলে ব্যয় কমবে, আগ্রহটা বাড়ার কথা। সে উদ্দেশ্যে সরকার এটা করেছে। ছাদে সৌর প্যানেল বসিয়েও চালু না রাখা বা শুধু দেখানোর জন্য তা স্থাপনের বিষয়ে খসড়ায় জরিমানার যে প্রস্তাব আছে, সে বিষয়ে স্রেডার এ কর্মকর্তা বলেন, যারা অনুমতি নিয়েও করবে না বা স্থাপন করেও চালু রাখবে না, তাদের ক্ষেত্রে কোনো না কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা থাকবে। তবে জরিমানার হার, দায় নির্ধারণ, যাচাই পদ্ধতি ও আপিলের সুযোগ কী হবে, তা খসড়ায় বলা নেই।
কৌশলপত্র বাস্তবায়নে স্রেডার জনবল, বাজেট ও আইনগত ক্ষমতা যথেষ্ট কি না জানতে চাইলে আশরাফুল আলম বলেন, বড় কর্মসূচি নিলে জনবলের ঘাটতি থাকতে পারে। তবে সেই ঘাটতি পূরণ, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও চলবে। জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম মনে করেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনায় ইতিবাচক দিক আছে। রুফটপ সোলারে করছাড়, ক্যাপেক্স ও ওপেক্স দুই মডেলে সুবিধা, বড় প্রকল্পে গ্যারান্টির বিষয়, ট্যারিফ কাঠামো, চাহিদা ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি দক্ষতাকে একই আলোচনায় আনা ভালো উদ্যোগ। নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিষয়টি আলাদা করে না দেখে সামগ্রিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টাকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, চাহিদা ব্যবস্থাপনা, মানুষের ব্যবহার প্যাটার্ন, এনার্জি ইফিসিয়েন্সি এবং নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের সম্প্রসারণ একসঙ্গে ভাবা হলে ফল ভালো হতে পারে।
ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের প্রধান এই জ্বালানি বিশ্লেষক বলেন, নবায়নযোগ্য সক্ষমতার লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন হবে কি না, তা নির্ভর করবে সরকার সামগ্রিকভাবে কতটা ভালোভাবে পরিকল্পনা, মনিটরিং এবং প্রয়োজনমতো সংশোধন করতে পারে-সেটির ওপর। নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ বাড়ানোর পাশাপাশি নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানির ওপর চাপ কমবে বলেও মনে করেন তিনি।
বিদ্যুৎ খাতে বড় স্থাপিত সক্ষমতা থাকার পরও জ্বালানি সরবরাহ, আমদানি নির্ভরতা, চাহিদা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে সংকট তৈরি হয়। এই প্রেক্ষাপটে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের নতুন সক্ষমতা যোগ হলে বিদ্যমান বাড়তি সক্ষমতার প্রশ্ন কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। শফিকুল আলম বলেন, বিদ্যুৎ খাতের বাড়তি সক্ষমতা একদিনে সমাধান করা যাবে না; ধীরে ধীরে সামাল দিতে হবে। সামনে চাহিদা বাড়বে, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎও বাড়বে, আবার রাতের চাহিদা পূরণে বিদ্যমান সক্ষমতারও প্রয়োজন থাকবে। তার পর্যবেক্ষণ, ভবিষ্যতে নতুন জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর সক্ষমতা বাড়ানোর আগে বিদ্যমান সক্ষমতা ব্যবহার, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ এবং ব্যাটারি স্টোরেজের মধ্যে ভারসাম্য করতে হবে।
বিদ্যুৎ বিভাগের খসড়ায় বলা হয়েছে, বিদ্যুতের চাহিদা বছরে গড়ে ৬ শতাংশ হারে বাড়লে ২০৩০ সালে তা ২৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। ওই চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পেতে হলে প্রায় ১২ হাজার থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট স্থাপিত সক্ষমতা লাগবে। বর্তমানে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য সক্ষমতা থাকায় ২০৩০ সালের মধ্যে আরও ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার মেগাওয়াট নতুন সক্ষমতা যোগ করতে হবে। তবে বছরভিত্তিক প্রক্ষেপণে ২০২৬ ও ২০২৭ সালকে মূলত প্রস্তুতির সময় ধরা হয়েছে। এই দুই বছরে নীতি সহায়তা, জমি নির্বাচন, দরপত্র, অর্থায়ন, গ্রিড স্টাডি, নেট মিটারিং সহজীকরণ ও বিনিয়োগ প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে। ফলে বাস্তবায়নের চাপ পড়বে ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের দিকে। এর আগে প্রকল্পভিত্তিক তালিকা, জমি, দরপত্র, অর্থায়ন, গ্রিড সংযোগ, ট্যারিফ ও অনুমোদন প্রক্রিয়া প্রস্তুত না হলে শেষ তিন বছরে লক্ষ্য পূরণ কঠিন হবে।
রুফটপ সোলার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড বা বিএনবিসিতে গ্রাহকের ধরনভেদে উপযোগী ছাদের ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ ব্যবহারের বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব আছে। চলমান ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রকল্পের ভবন, গ্যারেজ, সেতু ও অন্যান্য উপযোগী অবকাঠামোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার কথাও বলা হয়েছে।
খসড়া কৌশলপত্রে ইতোমধ্যে স্থাপিত রুফটপ সোলার ব্যবস্থা সচল আছে কি না, তা নিয়মিত যাচাই এবং যথাযথ কারণ ছাড়া অচল থাকলে ২০২৮ সাল থেকে জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে জরিমানার হার, দায় নির্ধারণ, যাচাই পদ্ধতি ও আপিলের সুযোগ কী হবে, তা খসড়ায় স্পষ্ট নয়। ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার লক্ষ্য ধরা হলেও কৃষিজমির ব্যবহার সীমিত রাখা, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের প্রভাব বিবেচনা করা এবং মানুষকে বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি কমানোর কথা বলা হয়েছে। খসড়ায় বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ যুক্ত হলে গ্রিড আধুনিকায়ন, নির্ভরযোগ্যতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উৎপাদন ওঠানামা সামলাতে ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম বা বিইএসএস উৎসাহিত করা হবে; কিছু ক্ষেত্রে তা বাধ্যতামূলকও হতে পারে। এ খাতের অর্থায়নে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন ফান্ড’ গঠনের প্রস্তাবও করা হয়েছে।
