খাগড়াছড়িতে সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৩

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

খাগড়াছড়ির পানছড়িতে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিন যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও দুই যুবককে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চেঙ্গী ইউনিয়নের পূজগাং এলাকার মধুমঙ্গল পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পানছড়ি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ। তিনি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। নিহতদের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া হামলার পেছনের কারণ এবং কারা এ ঘটনায় জড়িত, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ যুবক একটি টমটমযোগে পানছড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। পথে মধুমঙ্গল পাড়া এলাকায় সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তিনজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। হামলার পর বাকি দুইজনকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় হামলাকারীরা বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে।

ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-প্রসিত) দাবি করেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-সন্তু) গ্রুপের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

ইউপিডিএফের খাগড়াছড়ি জেলা সংগঠক অংগ্য মারমা বিবৃতিতে বলেন, জেএসএস (সন্তু) গ্রুপের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম, বৈষম্য, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কারণে সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছিল। পাশাপাশি তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ইউপিডিএফের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে বাধ্য করা হচ্ছিল। এরই পরিণতিতে সোমবার ওই দলের পাঁচ সদস্য দলত্যাগের চেষ্টা করলে মধুমঙ্গল পাড়ায় তাদের ওপর জেএসএস (সন্তু) গ্রুপ গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন এবং বাকি দুইজনকে বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

তবে ইউপিডিএফের এ দাবির বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-সন্তু) গ্রুপের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ, নিহত ও নিখোঁজদের পরিচয় এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।